লন্ডনে ড. ইউনূস, অর্থপাচার তদন্তে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চলমান — তবে স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক অনিশ্চিত

জাতীয়
লন্ডনে ড. ইউনূস, অর্থপাচার তদন্তে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চলমান — তবে স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক অনিশ্চিত

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও কিয়ার স্টারমার। ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক
১২ জুন ২০২৫

বাংলাদেশে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার অভিযানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইছেন। তবে, তাঁর লন্ডন সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক এখনও নিশ্চিত হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, স্টারমারের দপ্তর এখন পর্যন্ত ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এদিকে ইউনূস জানিয়েছেন, তিনি আশা করেন যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় নৈতিক ও আইনি সহযোগিতা প্রদান করবে।

“যুক্তরাজ্যের মাটিতে যদি বাংলাদেশি জনগণের অর্থ থাকে, সেটি ফিরিয়ে আনতে তাদের নৈতিক দায় রয়েছে,” — বলেন ড. ইউনূস।

এনসিএ’র পদক্ষেপ

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদের অনুসন্ধানে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (NCA) ইতোমধ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। আলজাজিরা’র এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্যভিত্তিক একাধিক সম্পদ বর্তমানে এনসিএ’র ফ্রিজিং অর্ডারের আওতায় রয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, এটি একটি বেসামরিক মানি লন্ডারিং তদন্তের অংশ এবং বাংলাদেশের আইনি অনুরোধের ভিত্তিতে এটি শুরু হয়েছে।

রাজকীয় সম্মাননার আয়োজন

যদিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অনিশ্চিত, তবে বৃহস্পতিবার লন্ডনের সেন্ট জেমস প্যালেসে ড. ইউনূসের জন্য রয়েছে এক ঐতিহাসিক সম্মাননা। কিং চার্লস তৃতীয় তাকে প্রদান করবেন “হারমনি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫”, যা শান্তি, সামাজিক ন্যায় ও টেকসই উন্নয়নে তার আজীবন অবদানের স্বীকৃতি।

রাজনীতি নাকি ন্যায়বিচার?

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থপাচার ইস্যুতে যুক্তরাজ্য এখন আইনগত রুটে সহযোগিতা করলেও রাজনৈতিক স্তরে সরাসরি কোনো পক্ষ নেয়ার বিষয়ে সংযত আচরণ করছে। ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও, স্টারমার সরকার এখনই বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরাসরি অংশ নিতে চাইছে না।

হাইকমিশনের বক্তব্য

বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, “স্টারমার বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। বৈঠক নিয়ে এখনো আলোচনা ও সময় সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে।”