‘জনগণের ভোটে জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ার সময় এখনই’: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “এখনই সময় জনগণের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার। জনগণের সরাসরি ভোটে ইনসাফভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
মঙ্গলবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যাঁরা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে, আমাদের এখন একটি সত্যিকারের জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন এক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চাই যেখানে ক্ষমতার মালিক হবে জনগণ। জাতীয় সরকার গঠন করে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করছি। আমাদের রাজনীতি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি।”
অনুষ্ঠানে ৬৩টি বিরোধী রাজনৈতিক দল, শহীদ পরিবার ও আহতদের উপস্থিতিতে এক অভিন্ন জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয় এবং ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান’ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
তারেক রহমান জানান, শুধুমাত্র ২০২৪ সালের আন্দোলনেই বিএনপির ৪২২ জনসহ অন্তত দেড় হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি। পঙ্গুত্ববরণ করেছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। “এই ত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না,”— বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “জাতীয় ঐক্যের মানে সব রাজনৈতিক দলকে এক মঞ্চে আনা নয়, বরং জাতীয় স্বার্থে এক কণ্ঠস্বর থাকা।” তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “যাতে কোনো বিদেশি বা তাঁবেদার অপশক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য এই ঐক্য অটুট রাখতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতারা ছাড়াও গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, হেফাজতের নেতা জোনায়েদ আল হাবিবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য, শান্তিপূর্ণ রাজনীতি ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বলেন, “এ লড়াই এখন শুধু বিএনপির নয়, পুরো জাতির।”


