স্ত্রীকে ‘মায়ের মতো’ বললে কি তালাক হবে?
একটি প্রচলিত পারিবারিক প্রশ্ন ঘিরে সম্প্রতি ইসলামি মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি হলো: স্ত্রীকে ‘মায়ের মতো’ বলা বা তুলনা করা হলে কি তালাক হয়ে যায়?
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি ইসলামি শরিয়তের একটি স্পর্শকাতর বিষয়, যেটি ‘জিহার’ নামক একটি পরিচিত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তবে প্রতিটি প্রেক্ষাপট ও নিয়তের ওপর ভিত্তি করেই এর বিধান নির্ধারিত হয়।
যদি কোনো স্বামী নিছক প্রশংসাসূচক বা ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে স্ত্রীকে বলেন, “তুমি আমার মায়ের মতো” — তাহলে এটিকে তালাক হিসেবে ধরা হবে না। এমনকি এটি জিহার হিসেবেও গণ্য হবে না, যদি তাতে মায়ের মতো করে স্ত্রীকে চিরতরে হারাম করার নিয়ত না থাকে।
তবে ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, এমন তুলনা করা নাজায়েজ এবং এটি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কেননা এটি পারস্পরিক সম্মান ও বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
যদি কোনো স্বামী রাগ বা সিদ্ধান্তমূলকভাবে বলেন, “তুমি আমার জন্য মায়ের মতো হারাম” — তাহলে এটি জিহার হিসেবে গণ্য হবে। জিহারের পর স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত না হলেও, স্বামীর জন্য স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হারাম হয়ে যায় যতক্ষণ না কাফফারা প্রদান করা হয়।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী জিহারের কাফফারা হলো তিন পর্যায়ের:
-
সম্ভব হলে একজন মুমিন দাস মুক্ত করা।
-
দাস না থাকলে, ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোজা রাখা।
-
সেটিও সম্ভব না হলে, ৬০ জন গরিব মানুষকে খাদ্য দান করা।
এ প্রসঙ্গে সুরা মুজাদালা (আয়াত ২-৪)-এ আল্লাহ বলেন,
“…যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে জিহার করে, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মা নয়… অতঃপর তারা যদি ফিরে আসে, তবে পরস্পরকে স্পর্শ করার আগে তাদের জন্য একটি কাফফারা আদায় করা ফরজ…”
ইসলামি আইনবিদ ও আলেমরা পরামর্শ দেন, স্ত্রী-স্বামীর সম্পর্কের মধ্যে এমন স্পর্শকাতর তুলনা এড়িয়ে চলা উচিত। ভালোবাসা ও সম্মানের সম্পর্ককে নাজায়েজ বক্তব্য দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়।


