অজু-গোসলে ব্যবহৃত পানি কি অপবিত্র?
ইসলামিক শরীয়াহর আলোকে নাপাকি পানি এবং ব্যবহৃত পানির ব্যবহার সংক্রান্ত ধর্মীয় নির্দেশিকা নিয়ে সম্প্রতি বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। শরীয়াহ অনুযায়ী, শরীরে বাহ্যিক কোনো নাপাকতা না থাকলে, অজু বা গোসলের জন্য ব্যবহৃত পানি কখনোই অপবিত্র হয় না। এমন পানিকে মায়ে মুস্তামাল বা ব্যবহৃত পানি বলা হয়, যা পুনরায় অজু বা গোসলের জন্য ব্যবহার করা যায় না, তবে শরীরে লেগে থাকা নাপাকতা দূর করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অজু বা গোসলের পানি শরীর থেকে কিছুটা গড়িয়ে যদি অজুর পাত্র বা বালতিতে পরে যায়, তবে তা অপবিত্র হয় না এবং ওই পানি দিয়ে আবার অজু বা গোসল করা অবৈধ নয়। তবে ব্যবহৃত পানির পরিমাণ যদি অব্যবহৃত পানির চেয়ে অনেক বেশি হয়, তাহলে সেই পানি দিয়ে অজু বা গোসল করা বৈধ হবে না।
একই সঙ্গে, গোসল ফরজ অবস্থায় পানির পাত্রে হাত ডোবানোর ফলে পানি নাপাক হয় না যদি হাতে বাহ্যিক কোনো নাপাকতা না থাকে। শুধুমাত্র আঙুল ডোবানোর কারণে পানি ব্যবহৃত বা অপবিত্র হয় না। এছাড়া ব্যবহৃত পানিতে ভেজা পোশাক পরে নামাজ আদায় করাও শরীয়াহর দৃষ্টিতে বৈধ।
মুসলিম সমাজে এই ব্যাখ্যা নৈতিক ও ধর্মীয় জটিলতাগুলো সহজ করার পাশাপাশি সঠিক দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে গুরুত্ব বহন করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ধর্মীয় সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ধরনের বিষয়াবলী সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।


