ভূমিকম্প: প্রাকৃতিক সতর্কবার্তা, ইসলামের দৃষ্টিতে করণীয় কী?
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সময় সময় অনুভূত হচ্ছে ভূমিকম্প। এতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে ইসলাম ধর্মে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দেখা হয় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের সতর্কবার্তা ও নিদর্শন হিসেবে। ভূমিকম্প, ঝড় বা দুর্যোগের সময় মুসলমানদের করণীয় কী—সে বিষয়ে রয়েছে কোরআন ও হাদিসভিত্তিক সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।
ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জন্য এক আত্মজিজ্ঞাসার মুহূর্ত। এসবের মাধ্যমে মহান আল্লাহ বান্দাদের মনে করিয়ে দেন তার অসীম ক্ষমতা এবং মানুষের দুর্বলতা। কোরআনের সূরা আনআমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
“আমি আগের জাতিদের কাছে অনেক রাসুল পাঠিয়েছি। তাদের ওপর ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও রোগ-ব্যাধি চাপিয়ে দিয়েছি, যেন তারা আমার সামনে নতিস্বীকার করে। কিন্তু তারা তা ভুলে গিয়ে অনুগত না হয়ে অহংকারে অটল থাকে। তখন আমি হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম।”
— [সূরা আনআম: ৪২-৪৪]
ভূমিকম্পের সময় ইসলাম যে কর্মপন্থা গ্রহণ করতে বলেছে, তা হলো— আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া (ইস্তেগফার), দোয়া করা, বেশি বেশি আল্লাহর স্মরণ (যিকর) করা এবং সদকা দেওয়া। সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সময় যেমন নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব, তেমনি ভূমিকম্পের সময়ও দোয়া ও বিনয় প্রকাশ করাকে আলেমরা উৎসাহিত করেছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا…
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা…
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এর কল্যাণ চাই, এর মধ্যে যে কল্যাণ আছে তা চাই এবং আমি আপনার কাছে এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।
— (সহিহ মুসলিম)
ভরসার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
ভূমিকম্প বা বিপদের সময় নিচের দোয়াগুলোও বেশি বেশি পড়া উচিত:
ইয়ুনুস (আ.) এর দোয়া
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ…
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্জালিমিন।
অর্থ: তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তুমি পবিত্র, আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।
— [সূরা আম্বিয়া: ৮৭]
প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় পড়ার জন্য হাদিসে বর্ণিত দোয়া:
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ…
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মা’আসমিহি শাইউন…
অর্থ: আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে আকাশ ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না।
— (আবু দাউদ, তিরমিজি)
ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, শুধু প্রাকৃতিক ব্যাখায় ভূমিকম্পকে না দেখে এটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে দেখা উচিত। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অন্যায়, অবিচার ও পাপাচার থেকে ফিরে এসে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়াই প্রকৃত পরিত্রাণ।


