সৌদির গ্র্যান্ড মুফতি সালেহ ফাওযানের আলোচিত কয়েকটি ফতোয়া

ধর্ম
সৌদির গ্র্যান্ড মুফতি সালেহ ফাওযানের আলোচিত কয়েকটি ফতোয়া
নিউজ ডেস্ক
২৩ অক্টোবর ২০২৫

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পদ গ্র্যান্ড মুফতির দায়িত্ব পেয়েছেন বিশিষ্ট আলেম শায়খ সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান। নব্বই বছর বয়সী এই আলেম দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত।

মক্কা ও মদিনার অবস্থান সৌদি আরবকে মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু করে তুলেছে। ফলে, গ্র্যান্ড মুফতির মতামত ও ফতোয়াগুলো শুধু সৌদি আরবে নয়, বিশ্বব্যাপী সুন্নি মুসলমানদের মধ্যেও ব্যাপক গুরুত্ব পায়। শায়খ ফাওযান তার বক্তব্য ও ফতোয়াগুলো মাধ্যমে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

বিশ্বের কোটি কোটি সুন্নি মুসলমানের কাছে তিনি একজন মর্যাদাপূর্ণ ধর্মীয় নেতা। বিশেষ করে মক্কা-মদিনার রক্ষণাবেক্ষণ, হজ পরিচালনা এবং ইসলামের বিভিন্ন জটিল ইস্যুতে তার মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

শায়খ সালেহ বিন ফাওযান ‘নূর আলা আল-দারব’ নামে জনপ্রিয় একটি রেডিও প্রোগ্রামের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার অসংখ্য গ্রন্থ এবং টেলিভিশন আলোচনা আরব বিশ্বে সমাদৃত।

তবে, শায়খ ফাওযানের কিছু মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। ২০১৭ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল যে তিনি এক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় কথা বলেছেন। এছাড়া, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কঠোর সমালোচনা করায়ও তার বক্তব্যগুলো ব্যাপক আলোচনা বঞ্চিত হয়নি।

একটি আলোচিত ফতোয়া ছিল ২০১৬ সালে তিনি ‘পোকেমন গো’ গেম নিষিদ্ধের আহ্বান জানানো। এই গেমকে তিনি ভাগ্যনির্ভর এবং জুয়ার সমতুল্য হিসেবে অভিহিত করেন। যদিও পরবর্তীতে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে এই গেমের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারদারি রয়েছে।

শায়খ ফাওযানের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মতামত ঐতিহ্যবাহী ওয়াহহাবি মতবাদের ধারাবাহিকতা বহন করে। তিনি তার পূর্বসূরি গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল-শেখের মৃত্যুর পর এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যিনি ২৫ বছর ধরে এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতির পদটি ঐতিহাসিকভাবে আল-শেখ পরিবারের হাতে থাকে, যারা ১৮ শতকের ইসলামি সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাবের বংশধর।

সূত্র : আল জাজিরা