সকালে–সন্ধ্যায় মাত্র সাতবার এই দোয়া, দূর হবে দুশ্চিন্তা

ধর্ম
সকালে–সন্ধ্যায় মাত্র সাতবার এই দোয়া, দূর হবে দুশ্চিন্তা
নিউজ ডেস্ক
২৪ নভেম্বর ২০২৫

দৈনন্দিন জীবনে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ ও ভয় মানবজীবনের অঙ্গ। তবে ইসলাম এসব মানসিক চাপ থেকে মুক্তির জন্য নির্ভরযোগ্য একটি দোয়া শিক্ষা দিয়েছে, যা প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় মাত্র সাতবার পড়লেই মুমিনের সব দুশ্চিন্তার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা যথেষ্ট হয়ে যান— এমনটি বলেছেন আলেমরা।

সম্প্রতি ইসলামী গবেষক ও খ্যাতিমান মুফাসসিরদের এক আলোচনায় এ দোয়াটির গুরুত্ব নতুন করে উঠে আসে। আলোচনায় তারা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলমানদের যে দোয়া শিখিয়েছেন, তা আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ ভরসার ঘোষণা। দোয়াটি হলো—

حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

উচ্চারণ: হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হু, আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।
অর্থ: আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তার ওপর ভরসা করি, এবং তিনিই মহান আরশের রব।

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, দোয়াটির মূল শক্তি নিহিত আছে ‘তাওয়াক্কুলে’— অর্থাৎ আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতায়। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এ দোয়াটি সাতবার করে পাঠ করবে, তাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করার মতো কোনো বিষয়েই আল্লাহ তাকে একা ছেড়ে দেবেন না।

বিশেষজ্ঞরা স্মরণ করিয়ে দেন, নবী ইবরাহিম (আ.) যখন চরম বিপদের মুহূর্তে আগুনে নিক্ষিপ্ত হন, তখন তিনি এ দোয়াটিই পাঠ করেছিলেন। একই দোয়া পড়েছিলেন হজরত মুহাম্মাদ (সা.) ও তার সাহাবিরা— ওহুদের কঠিন বিপর্যয়ের মুহূর্তে, যখন শত্রু পুনরায় আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কোরআনেও সেই তাওয়াক্কুলের প্রশংসা করা হয়েছে।

ইসলামি গবেষকদের বক্তব্য, বর্তমান সময়ে মানসিক চাপ, অসহায়ত্ব ও নিরাপত্তাহীনতার ভয় বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এ দোয়াটি মানুষের মনে শান্তি ও সাহস জোগাবে। তারা আহ্বান জানান, প্রতিটি পরিবার— বিশেষত তরুণ প্রজন্মকে— এ দোয়াটি শিখে নিয়মিত পাঠ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, দোয়ার পাঠ শুধু দুশ্চিন্তা দূরই করে না, বরং জীবনকে আল্লাহর ওপর সমর্পণের অনুভূতি জাগিয়ে বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে। তারা বলেন, “এ দোয়া শুধু উচ্চারণ নয়, বরং হৃদয়ের গভীর থেকে আল্লাহর ওপর ভরসার ঘোষণা— আর এটাই মুমিনের মূল শক্তি।”