আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ৪ জিকির
আল্লাহর স্মরণ ও জিকিরের গুরুত্ব নিয়ে ইসলামী বিশ্লেষক ও আলেমরা বলেছেন, একজন মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর স্মরণে পরিপূর্ণ থাকা উচিত। জিকির শুধু মুখে আল্লাহর নাম উচ্চারণ নয়, বরং আল্লাহর আনুগত্য, ইবাদত, তিলাওয়াত, দোয়া, ইস্তেগফার এবং দ্বীনি আলোচনাও জিকিরের অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়, জিকির মুমিনের হৃদয়কে শক্ত করে, শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্ত রাখে এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে।
কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর স্মরণে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
সুরা বাকারা ১৫২: “তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমি তোমাদের স্মরণ করব।”
সুরা আ’রাফ ২০৫: “সকাল-সন্ধ্যায় বিনয় ও ভয়ে তোমার রবকে স্মরণ করো এবং গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।”
সুরা ত্বহা ১২৪: আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখদের পরিণতি হিসেবে সংকুচিত জীবন ও কেয়ামতে অন্ধ তুলে দাঁড় করানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আলেমরা মনে করেন, এসব আয়াত শুধু জিকির নয়, বরং আল্লাহর আনুগত্যপূর্ণ জীবনযাপনের বার্তা দেয়।
হাদিসে বহুবার চারটি জিকিরের বিশেষ মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে—
সুবহানাল্লাহ
আলহামদুলিল্লাহ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
আল্লাহু আকবার
সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিকির চারটি— সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার।” (সহিহ মুসলিম: ৫৪১৬)
অনেক আলেম সুন্নাহ অনুযায়ী এই চার জিকির একত্রে পড়তে বলেন:
“সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।”
নবী করিম (সা.) দরিদ্র সাহাবিদের উৎসাহ দিতে নামাজের পর নির্দিষ্ট জিকিরের নির্দেশ দেন—
সুবহানাল্লাহ – ৩৩ বার
আলহামদুলিল্লাহ – ৩৩ বার
আল্লাহু আকবার – ৩৪ বার
এটি এমন একটি আমল, যা সম্পদশালী ও গরিব— উভয় শ্রেণির মানুষকে সমানভাবে সওয়াব অর্জনের সুযোগ দেয়।
ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, আল্লাহর স্মরণ হৃদয়কে প্রশান্ত করে, জীবনে বরকত আনে এবং বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষা দেয়। নিয়মিত জিকির একজন মুমিনকে আল্লাহর আনুগত্যে দৃঢ় রাখে।


