বিয়ের খুতবা ও আনুষঙ্গিক বিধান কী কী জেনে রাখুন
ইসলামে বিয়ের আকদের সময় খুতবা পাঠ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইজাব–কবুলের আগে খুতবা পাঠ করতেন এবং সাহাবিদেরও তা শিক্ষা দিয়েছেন। হাদিস থেকে জানা যায়, বিয়ের খুতবায় আল্লাহর হামদ-সানা, তাকওয়ার নসিহত এবং পবিত্র কোরআনের নির্দিষ্ট কয়েকটি আয়াত পাঠ করা সুন্নত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, নবীজি (সা.) বিয়ের সময় খুতবা পাঠ করতেন এবং এতে সুরা নিসা (১), সুরা আলে ইমরান (১০২) ও সুরা আহজাবের (৭০-৭১) আয়াত অন্তর্ভুক্ত থাকত। (সুনানে আবু দাউদ)
খুতবার বিষয়বস্তু কী?
বিয়ের খুতবায় সাধারণত—
আল্লাহর প্রশংসা ও সাহায্য প্রার্থনা, তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ, দাম্পত্য জীবনের দায়িত্ব ও নৈতিকতার উপদেশ, পাত্র-পাত্রীর জন্য কল্যাণ ও দোয়া
অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এ ছাড়া খুতবার শেষে বিয়ের গুরুত্ব নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস উল্লেখ করাও প্রচলিত রয়েছে। যেমন—“বিয়ে আমার সুন্নত” এবং “বান্দা যখন বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করে নেয়।”
বিয়ের খুতবা কি আবশ্যক?
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ের খুতবা ওয়াজিব বা ফরজ নয়। অর্থাৎ, খুতবা না পড়লেও বিয়ে সহিহ হয়ে যায়। ফিকহবিদদের মতে, বিয়ের বৈধতার জন্য প্রধান শর্ত হলো—
বর ও কনের সম্মতি, দুজন সাক্ষীর উপস্থিতি, ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ)
এই শর্তগুলো পূরণ হলে বিয়ে সম্পন্ন হয়, খুতবা থাকুক বা না থাকুক।
তবুও কেন খুতবা গুরুত্বপূর্ণ?
যদিও খুতবা বিয়ের অপরিহার্য অংশ নয়, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হওয়ায় মুসলিম সমাজে তা গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে থাকে। খুতবা দাম্পত্য জীবনের শুরুতে আল্লাহভীতি, দায়িত্ববোধ ও দ্বীনদারির বার্তা পৌঁছে দেয়, যা একটি কল্যাণময় সংসারের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক।
ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, বিয়ের খুতবা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি নবীজি (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণের পাশাপাশি নতুন জীবনের জন্য একটি আত্মিক প্রস্তুতি।


