মৃত ব্যক্তির সওয়াবের জন্য রোজা রাখা যাবে কি?

ধর্ম
মৃত ব্যক্তির সওয়াবের জন্য রোজা রাখা যাবে কি?
নিউজ ডেস্ক
১০ জানুয়ারি ২০২৬

অনেক মুসলমানের মনে প্রশ্ন থাকে—মৃত ব্যক্তির সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে নফল রোজা রাখা বা তার পক্ষ থেকে কাজা রোজা আদায় করা শরিয়তসম্মত কি না। এ বিষয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির আত্মার সওয়াব পৌঁছানোর নিয়তে নফল রোজা রাখা জায়েজ। একইভাবে নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত এবং এসব আমলের সওয়াব মৃতের কাছে পৌঁছানোর জন্য দোয়া করা যেতে পারে। এতে যিনি আমল করবেন তিনি নিজেও সওয়াব পাবেন এবং আল্লাহ তাআলা চাইলে মৃত ব্যক্তির কাছেও সেই সওয়াব পৌঁছে দেবেন।

তবে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাজা রোজা বা কাজা নামাজ আদায়ের বিধান ইসলামে নেই। কেউ যদি নামাজ বা রোজার কাজা আদায় করার আগেই ইন্তেকাল করেন, তাহলে তার সন্তান বা আত্মীয়স্বজন তার হয়ে সেই কাজা রোজা রাখা বা নামাজ আদায় করতে পারবেন না।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এই বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্যও স্পষ্ট। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, “কেউ অন্যের পক্ষ থেকে রোজা রাখবে না এবং অন্যের পক্ষ থেকে নামাজও আদায় করবে না।” (মুয়াত্তা ইমাম মালেক)

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর সময় যদি তার কাজা রোজা বাকি থাকে, তাহলে তার পক্ষ থেকে ফিদইয়া আদায় করতে হবে। প্রতিটি কাজা রোজার জন্য একজন দরিদ্রকে দুই বেলা খাবার বা তার সমপরিমাণ অর্থ দান করতে হবে।

হাদিস ও কোরআনের আলোকে মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে—এমন দুটি সুন্নত আমল সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। এগুলো হলো দোয়া এবং সদকা।

কোরআনে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার কথা বলেছেন। তিনি বলেন,
“হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে।” (সুরা হাশর: ১০)

হাদিসে এসেছে, সাদ ইবনে উবাদা (রা.)–এর মা তার অনুপস্থিতিতে ইন্তেকাল করলে তিনি নবীজি (সা.)–এর কাছে জানতে চান, মায়ের পক্ষ থেকে সদকা করলে তা কি তার উপকারে আসবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তরে বলেন, “হ্যাঁ।” এরপর সাদ (রা.) তার একটি বাগান মায়ের জন্য সদকা করেন। (সহিহ বুখারি)

সব মিলিয়ে ইসলামের দৃষ্টিতে মৃত ব্যক্তির জন্য নফল আমল করে দোয়া করা জায়েজ হলেও, তার ফরজ ইবাদতের কাজা আদায়ের পরিবর্তে দোয়া ও সদকার পথকেই সুন্নত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।