বিয়েতে নারীর সম্মতি অপরিহার্য—ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিতে স্পষ্ট বার্তা

ধর্ম
বিয়েতে নারীর সম্মতি অপরিহার্য—ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিতে স্পষ্ট বার্তা
নিউজ ডেস্ক
২৬ জানুয়ারি ২০২৬

বিয়ের ক্ষেত্রে পরিবারপ্রধানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত—এমন একটি ধারণা বহুদিন ধরে সমাজে প্রচলিত। বিশেষ করে মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে বাবা-মা ও পরিবারের মুরুব্বিদের পছন্দকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে ইসলাম এই বিষয়টিকে একতরফাভাবে দেখে না। বরং শরিয়তে নারীর সম্মতি ও ইচ্ছাকে বিয়ের অন্যতম মৌলিক শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারীকে তার অমতে বিয়ে দেওয়া বৈধ নয়। এমনকি জোরপূর্বক বিয়ে হলে, ওই নারী চাইলে বিচারকের কাছে আবেদন করে সেই বিয়ে বাতিল করানোর অধিকার রাখেন। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় এই নীতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।

আল্লাহর রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময়েও এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে তিনি নারীর সম্মতিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। এক ঘটনায় দেখা যায়, এক তরুণী তার বাবার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে রাসুলের (সা.) কাছে হাজির হন। রাসুল (সা.) তখন বিয়ে বহাল রাখা বা বাতিল করার পূর্ণ এখতিয়ার মেয়েটির হাতেই তুলে দেন। এতে স্পষ্ট হয়, বিয়ের ক্ষেত্রে নারীর মতামত উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অন্য এক ঘটনায়, এক নারী জানান—তার বাবা এমন একজনের সঙ্গে তাকে বিয়ে দিয়েছেন, যাকে তিনি পছন্দ করেন না। রাসুল (সা.) ওই বিয়েকে গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করেননি এবং মেয়েটিকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুমতি দেন।

এমনকি বিধবা নারীর ক্ষেত্রেও ইসলাম তার ইচ্ছাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, এক আনসারি নারী তার পছন্দের বাইরে বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় রাসুলের (সা.) শরণাপন্ন হলে, তিনি সেই বিয়ে বাতিল ঘোষণা করেন।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, পরিবারের দায়িত্ব হলো সন্তানের কল্যাণ চাওয়া ও সঠিক পরামর্শ দেওয়া—কিন্তু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নয়। তবে একটি ব্যতিক্রমী দিকও রয়েছে। যদি কোনো নারী এমন পাত্র পছন্দ করেন, যিনি সামাজিক মর্যাদায় পরিবারের তুলনায় অনেক নিচে এবং যার কারণে পারিবারিক সম্মান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সে ক্ষেত্রে পরিবার আপত্তি জানাতে পারে। কিন্তু পাত্র যদি সমমর্যাদার বা উচ্চমর্যাদার হন, তাহলে কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের অজুহাতে বাধা দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব নির্দেশনা বর্তমান সমাজে বাল্যবিবাহ, জোরপূর্বক বিয়ে ও পারিবারিক সহিংসতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি নারীর অধিকার ও মর্যাদার বিষয়ে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানকে স্পষ্ট করে।