নারীরা ঘরে বসে কীভাবে ইতিকাফ করবেন

ধর্ম
নারীরা ঘরে বসে কীভাবে ইতিকাফ করবেন
নিউজ ডেস্ক
৫ মার্চ ২০২৬

রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। মাহে রমজানের বরকত লাভ এবং বিশেষ করে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রজনি লাইলাতুল কদরের ফজিলত অর্জনের অন্যতম উত্তম উপায় হলো ইতিকাফ।

ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে যে ব্যক্তি মাত্র একদিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মাঝখানে তিনটি পরিখার সমান দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। প্রতিটি পরিখার দূরত্ব হবে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। (আল-মুজামুল আওসাত লিত-তবারানী, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৮/৩৫১-৩৫২; শুআবুল ঈমান ৩/৪২৫)

ইতিকাফ শুধু পুরুষদের জন্য নয়, নারীদের জন্যও এর বিধান রয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন এবং তার ইন্তেকালের পর তার স্ত্রীগণও ইতিকাফ করেছেন। (সহিহ বুখারি: ২০৩৬; সহিহ মুসলিম: ১১৭২)

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে ইতিকাফের প্রচলন তুলনামূলক কম হলেও এটি অত্যন্ত সওয়াবের আমল। নারীদের জন্য ইতিকাফ করা সহজ, কারণ তারা নিজ ঘরেই ইতিকাফ করতে পারেন। এতে সংসারের প্রয়োজনীয় খোঁজখবরও রাখা সম্ভব হয়।

নারীদের ইতিকাফের স্থান

নারীদের জন্য ঘরই নামাজের উত্তম স্থান। তাই তারা ঘরের যে স্থানে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন, সেই স্থানেই ইতিকাফ করতে পারেন। যদি আগে থেকে নির্ধারিত কোনো নামাজের স্থান না থাকে, তাহলে ইতিকাফের জন্য ঘরের একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে সেখানে ইতিকাফ করতে হবে।

ইতিকাফের স্থান পর্দায় আবৃত করা

নারীদের ইতিকাফের স্থান পর্দা দিয়ে আচ্ছাদিত রাখা উত্তম। এতে ঘরে কোনো বেগানা পুরুষ এলে স্থান পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না।

স্বামীর অনুমতি গ্রহণ

বিবাহিত নারীদের ইতিকাফ করার ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। স্বামীর অনুমতি ছাড়া ইতিকাফ করা অনুচিত। তবে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া স্ত্রীকে ইতিকাফে বাধা দেওয়া উচিত নয়। এতে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই সওয়াবের অংশীদার হবেন।

ঋতুস্রাব অবস্থায় ইতিকাফ

নারীদের ঋতুস্রাব অবস্থায় ইতিকাফ সহিহ নয়। কারণ এ সময় রোজা রাখা যায় না, আর সুন্নত ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত।

ইতিকাফ অবস্থায় ঋতুস্রাব শুরু হলে

ইতিকাফ শুরু করার পর যদি ঋতুস্রাব শুরু হয়, তাহলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। পরে একদিনের ইতিকাফ রোজাসহ কাজা করতে হবে।

ইতিকাফের স্থান থেকে বের হওয়া

নারীরা যে স্থানকে ইতিকাফের জন্য নির্ধারণ করবেন, তা তাদের জন্য মসজিদের মতো গণ্য হবে। তাই প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া সেই স্থান থেকে বের হওয়া যাবে না। প্রস্রাব-পায়খানা বা ওজুর প্রয়োজন হলে বের হওয়া যাবে। তবে যদি ইতিকাফের কক্ষের ভেতরেই বাথরুম থাকে, তাহলে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

ইতিকাফ অবস্থায় করণীয় আমল

ইতিকাফ অবস্থায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, হাদিস অধ্যয়ন, জিকির-আজকার, ইসলামি জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষা দেওয়া, ধর্মীয় বইপত্র পড়াসহ সব ধরনের সওয়াবের কাজ করা যায়। তবে দুনিয়াবি আলোচনা করা এবং প্রয়োজন ছাড়া ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।