জুলাই জাদুঘরের টিকিট আগেই অনলাইনে কাটবেন যেভাবে

জুলাই জাদুঘরের টিকিট আগেই অনলাইনে কাটবেন যেভাবে
৬ আগস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের নানা অনুষঙ্গ সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই জাদুঘর’। একসময় এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন। এখন সেই ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ও প্রাঙ্গজুড়ে স্থান পেয়েছে আন্দোলনের স্মারক, আলোকচিত্র, দলিল, ভাস্কর্য এবং শহীদদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী।

সম্প্রতি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশা, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতিকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের সমন্বয়

জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পাশাপাশি বিগত দেড় দশকের আলোচিত কয়েকটি জাতীয় ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনীতে রয়েছে গুম-নির্যাতনের তথ্য-উপাত্ত, আলোকচিত্র, দলিল, ভাস্কর্য এবং প্রতীকী কবর। এছাড়া বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট নানা ঐতিহাসিক উপকরণও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিও দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কক্ষে শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন

জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ দ্বিতীয় তলার সেই কক্ষ, যেখানে একসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবস্থান করতেন। বর্তমানে ওই কক্ষে আন্দোলনে নিহতদের ব্যবহৃত রক্তাক্ত পোশাক, ঘড়ি, জুতা, কোট, টাইসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত স্মারক সংরক্ষণ করা হয়েছে। একই কক্ষে প্রবাসফেরত শহীদ রাজিবসহ কয়েকজন শহীদের ব্যবহৃত সামগ্রীও প্রদর্শিত হচ্ছে।

ভাস্কর্যে ফুটে উঠেছে আন্দোলনের আবেগ

জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে নির্মিত হয়েছে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতীকী কবর। পাশাপাশি একাধিক ভাস্কর্যে আন্দোলনের স্মরণীয় মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রিকশাচালকের সালাম জানানোর দৃশ্য, শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের প্রতীকী উপস্থাপনা এবং আন্দোলনের সময় এক শহীদের মরদেহ কাঁধে নিয়ে দুই বোনের শোকাহত মিছিলের দৃশ্য, যা আন্দোলনের ত্যাগ ও আবেগের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দক্ষিণ বারান্দায় থাকা শিশুদের দোলনাটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেখানে এখন আন্দোলনে নিহত শিশুদের প্রতিকৃতি প্রদর্শিত হচ্ছে। ভবনের একটি বাথটাবে শহীদদের ছবি ও তাদের মৃত্যুর সংক্ষিপ্ত বিবরণও প্রদর্শন করা হয়েছে।

যেভাবে টিকিট সংগ্রহ করবেন

জাদুঘর পরিদর্শনে আগ্রহীদের আগে থেকেই অনলাইনে সময়ভিত্তিক (স্লট) নিবন্ধন করতে হবে। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের পর নিজের সুবিধামতো সময় নির্বাচন করে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। নির্ধারিত দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি স্লট বেছে নিতে হবে।

প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা অনলাইন বা অফলাইনে টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।

জুলাই জাদুঘর শুধু একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র নয়; বরং সাম্প্রতিক বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধ্যায়ের স্মৃতি, দলিল ও উপস্থাপনার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি স্মারকস্থল, যেখানে ইতিহাসকে বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

অনলাইনে যেভাবে টিকিট কাটবেন-

  • জাদুঘরে প্রবেশে আগ্রহীদের প্রথমে ‘জুলাই ৩৬’ ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।
  • এরপর নিজের সুবিধামতো ভিজিটের সময় নির্বাচন করে একই ওয়েবসাইট থেকে অনলাইন টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

তবে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে সময়ভিত্তিক (স্লট) বুকিং করা দর্শনার্থীদের অনুমোদিত সময়েই প্রবেশ করতে হবে। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি থাকা সময় নির্বাচন করতে হবে।