কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় চীনের প্রস্তুতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় চীনের প্রস্তুতি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের গবেষকদের সতর্কবার্তার পর বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। তবে সম্ভাব্য এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় চীনও নীতিমালা, নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং রাষ্ট্রীয় তদারকির মাধ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বর্তমানে উন্নত বা ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে প্রধান দুই শক্তি হিসেবে দেখা হয়। এআই নীতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুই দেশের অবস্থানে পার্থক্য থাকলেও উন্নত এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাকে উভয় দেশই নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছে।

চীনা নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিতে, এআই শক্তিশালী হলেও যথাযথ প্রযুক্তিগত মানদণ্ড, আইন ও রাষ্ট্রীয় তদারকির মাধ্যমে এর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই দেশটির সাইবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সংস্থা ও শিল্প মন্ত্রণালয় চলতি বছরের মে মাসে এআই এজেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে একটি নীতিমালা জারি করে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ওই নীতিমালায় এআইয়ের ‘নিয়ন্ত্রণ হারানো’কে বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এআই এজেন্টের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনে সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এআই এজেন্ট প্রচলিত চ্যাটবটের তুলনায় বেশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। এসব ব্যবস্থা নিজে পরিকল্পনা তৈরি করে একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা রাখে। ফলে এ ধরনের প্রযুক্তির স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যক্রম নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চীনের নতুন নীতিমালায় ডেটা বিষক্রিয়া, অ্যালগরিদমে কারসাজি এবং সিস্টেমের বিভিন্ন দুর্বলতা থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া এআই এজেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি বাধ্যতামূলক জাতীয় মানদণ্ড তৈরির কাজও শুরু করেছে চীন। দেশটির কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, উন্নত এআই মডেল ভবিষ্যতে নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে বাস্তব বিশ্বের বিভিন্ন সিস্টেমে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত চীনের এআই নিরাপত্তা কাঠামোয় প্রথমবারের মতো ভবিষ্যতে এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সেখানে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, ভবিষ্যতের কোনো এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাইরের সম্পদ সংগ্রহ, নিজের প্রতিলিপি তৈরি, আত্মসচেতনতা অর্জন কিংবা নিজের সক্ষমতা ও ক্ষমতা বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে।

২০২৫ সালের হালনাগাদ কাঠামোয় এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এআই হঠাৎ করে বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনের পর সম্পদ সংগ্রহ, নিজেকে প্রতিলিপি করা এবং ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে ‘বিশ্বস্ত প্রয়োগ, নিয়ন্ত্রণ হারানো প্রতিরোধ’ নীতিও যুক্ত করা হয়েছে।

তবে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এআই উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটছে না চীন। বরং দেশের বিভিন্ন শিল্প ও খাতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে বেইজিং।

এর আগে ২০২৩ সালে নতুন নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণনীতি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের চ্যাটবট বাজারজাতকরণ কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছিল।

চীনের বর্তমান অবস্থান থেকে স্পষ্ট, এআইয়ের উন্নয়ন বন্ধ করার পরিবর্তে নিরাপত্তা পরীক্ষা, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় তদারকির কাঠামোর মধ্যেই প্রযুক্তিটির ব্যবহার ও বিকাশ এগিয়ে নিতে চাইছে দেশটি।