এআই ব্যবহার করে প্রতারণা, নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে

এআই ব্যবহার করে প্রতারণা, নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে
২০ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল তৈরি করছে অপরাধীরা। ভুয়া অনলাইন দোকান, পরিচিত মানুষের নকল কণ্ঠস্বর এবং বাস্তবের মতো দেখতে ডিপফেক ভিডিওর মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইয়ের সাহায্যে অল্প সময়েই পেশাদার চেহারার ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করা যাচ্ছে। এসব সাইটে কখনো যুক্তরাজ্যের পারিবারিক ব্যবসার পরিচয় দিয়ে দেশটিতে তৈরি উন্নত মানের পণ্য বিক্রির দাবি করা হয়। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে যুক্তরাজ্যের রাস্তা, পতাকা ও স্থানীয় পরিবেশের ছবিও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ক্রেতারা অর্ডার দেওয়ার পর পণ্য পান না। আবার কখনো তাঁদের কাছে নিম্নমানের গণহারে উৎপাদিত পণ্য পাঠানো হয়।

এআই ব্যবহার করে পরিচালিত প্রতারণার ধরন সম্পর্কে প্রথমবারের মতো একটি সতর্কতামূলক তালিকা প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস। এতে অনলাইন কেনাকাটা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নকল কণ্ঠস্বর ও ডিপফেক ভিডিওতে প্রতারণা

ভুয়া ছবি তৈরির পাশাপাশি অপরাধীরা এখন কণ্ঠস্বর নকল করার প্রযুক্তি এবং ডিপফেক ভিডিও ব্যবহার করছে। ডিপফেক হলো এআই দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তিত এমন ভিডিও, যেখানে কাউকে এমন কিছু বলতে বা করতে দেখা যায়, যা বাস্তবে ঘটেনি।

এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচিত আত্মীয় বা বন্ধুর কণ্ঠস্বর নকল করে জরুরি প্রয়োজনে অর্থ চাওয়া হতে পারে। ফলে ফোনে পরিচিত কারও কণ্ঠ শুনেই তাঁর পরিচয় নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

অনলাইনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতারকেরা প্রযুক্তির সাহায্যে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য মনে রাখতে এবং কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে স্বাভাবিক কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারে। এতে ভুয়া সম্পর্ককে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা সহজ হয়।

নিখুঁত বার্তা দিয়ে ফাঁদে ফেলছে প্রতারকেরা

এআইয়ের সাহায্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য আলাদাভাবে প্রতারণামূলক ই-মেইল, খুদে বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এসব বার্তায় ব্যক্তির নাম, পেশা বা অন্যান্য তথ্য যুক্ত করে সেগুলোকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা যায়।

আগে বানান ও ব্যাকরণগত ভুল দেখে অনেক সময় প্রতারণামূলক বার্তা শনাক্ত করা যেত। কিন্তু এখন এআই দিয়ে তৈরি বার্তা ভাষাগতভাবে নির্ভুল হওয়ায় সেই পদ্ধতি আর যথেষ্ট নয়। ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘হুইচ’ও বলছে, শুধু বানান বা ব্যাকরণগত ভুল খুঁজে এখন প্রতারণামূলক বার্তা চেনা যায় না।

প্রতারণা এড়াতে কী করবেন

ন্যাশনাল ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডসের পরামর্শ, অনলাইনে পরিচিত হলেও সরাসরি দেখা হয়নি—এমন কাউকে যাচাই ছাড়া টাকা, উপহারের কার্ড কিংবা ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য দেওয়া উচিত নয়।

অনলাইন দোকান থেকে কেনাকাটার আগে ওয়েবসাইটের ঠিকানা, বিক্রেতার পরিচয় ও ব্যবসার সত্যতা যাচাই করতে হবে। কোনো চাকরির বিজ্ঞাপন সন্দেহজনক মনে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

একইভাবে, পরিচিত কণ্ঠস্বর শোনা বা ভিডিও কলে কাউকে দেখেই তাঁর পরিচয় নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কেউ জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে দ্রুত টাকা পাঠাতে বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দিলে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ প্রতারকেরা প্রায়ই ভুক্তভোগীকে যাচাই-বাছাইয়ের সময় না দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে।

বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শ হলো, অর্থ পরিশোধ, ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে থামুন, তথ্য যাচাই করুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন। এআইয়ের কারণে প্রতারণা আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠলেও সতর্কতা ও স্বাধীনভাবে যাচাই করার অভ্যাস আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে পারে।