ভারতের কাছে হেরে সাফের মুকুট খোয়াল বাংলাদেশ, থামল হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন

খেলাধুলা
ভারতের কাছে হেরে সাফের মুকুট খোয়াল বাংলাদেশ, থামল হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন
নিউজ ডেস্ক
৬ জুন ২০২৬

টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত–এর কাছে ৩-১ গোলে হেরে শিরোপা ধরে রাখার মিশন ব্যর্থ হয়েছে। ফলে গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে এবার রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

ফাইনালের শুরুতে সতর্ক ও রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। তবে ম্যাচের ১২ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন শামসুন্নাহার। ঋতুপর্ণার ক্রস থেকে গোলমুখে খুব কাছাকাছি থেকেও বল স্পর্শ করতে পারেননি তিনি। দুই মিনিট পর আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করেন তহুরা খাতুন।

ভারতও প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি আক্রমণ শানায়। তবে বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিলি আক্তার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ম্যাচের ৪২ মিনিটে প্রথম গোল পায় ভারত। পেয়ারি জাজার আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বাংলাদেশের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। তবে পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তহুরা খাতুনের পাস থেকে গোল করে সমতা ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা।

১-১ সমতায় বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। খেলা শুরুর মাত্র ৪৮ সেকেন্ডের মাথায় পেয়ারি জাজার ক্রস থেকে হেডে গোল করেন সানফিদা। এতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত।

এরপর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় বাংলাদেশ। তবে সুযোগ তৈরি করেও গোল আদায় করতে পারেনি বাঘিনীরা। ৫৮ মিনিটে শামসুন্নাহারকে ভারতীয় বক্সে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পেনাল্টির দাবি উঠলেও রেফারি সেটি নাকচ করে দেন।

ম্যাচে গতি আনতে কোচ পিটার বাটলার একাধিক পরিবর্তন আনলেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। উল্টো ৮৩ মিনিটে ভারতের কম সেরতো গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন এবং বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে শিরোপা উৎসবে মাতে ভারত। অন্যদিকে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশের মেয়েদের।

তবে শিরোপা হাতছাড়া হলেও পুরো আসরে বাংলাদেশের লড়াকু পারফরম্যান্স সমর্থকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। টানা তিনটি ফাইনালে ওঠার কৃতিত্বও দেশের নারী ফুটবলের ধারাবাহিক অগ্রগতিরই প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।