কেয়ামতের দিন যে ৫ বিষয়ে জবাব দিতে হবে

ধর্ম
কেয়ামতের দিন যে ৫ বিষয়ে জবাব দিতে হবে
১১ আগস্ট ২০২৬

মৃত্যু মানুষের জীবনের অবধারিত বাস্তবতা। ধনী-গরিব কিংবা ক্ষমতাবান-দুর্বল—কেউই এর হাত থেকে রেহাই পাবে না। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষের সামনে তার পরকালীন পরিণতির ইঙ্গিত তুলে ধরা হবে এবং একদিন কেয়ামতের ময়দানে প্রত্যেককে নিজের কর্মের হিসাব দিতে হবে।

কোরআনে কেয়ামতের দিনের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলা হয়েছে, সেদিন মানুষ নিজের ভাই, মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের থেকেও পালিয়ে বেড়াবে। কারণ প্রত্যেকেই নিজের পরিণতি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। (সুরা আবাসা: ৩৪-৩৭)

হাদিসে কেয়ামতের দিনের জবাবদিহির বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত কেয়ামতের দিন কোনো মানুষের পদক্ষেপ সামনে এগোতে পারবে না। (তিরমিজি: ২৪১৬)

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

যে ৫ বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে

১. জীবন কীভাবে কাটিয়েছে

মানুষকে তার পুরো জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে—জীবনের সময়গুলো সে কীভাবে অতিবাহিত করেছে এবং কোন কাজে তা ব্যয় করেছে। তাই সময়ের যথাযথ ব্যবহার ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২. যৌবন কোথায় ব্যয় করেছে

বিশেষভাবে যৌবনকাল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। তারুণ্যের শক্তি, সামর্থ্য ও সময় কোন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও জবাবদিহির অংশ হবে।

৩. সম্পদ কোথা থেকে অর্জন করেছে

মানুষ তার সম্পদ কীভাবে উপার্জন করেছে, তা নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হবে। অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিষয়টি তাই ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

৪. সম্পদ কোথায় ব্যয় করেছে

শুধু সম্পদ অর্জনের উৎসই নয়, সেই সম্পদ কোন কোন কাজে ব্যয় করা হয়েছে, সেটিও হিসাবের আওতায় থাকবে। বৈধ উপায়ে উপার্জনের পাশাপাশি সঠিক ও কল্যাণকর কাজে অর্থ ব্যয় করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

৫. অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কী আমল করেছে

মানুষ যে জ্ঞান অর্জন করেছে, সেই জ্ঞান অনুযায়ী সে কতটা আমল করেছে—এ বিষয়েও প্রশ্ন করা হবে। শুধু জ্ঞান অর্জন করাই যথেষ্ট নয়; জীবনে তার বাস্তব প্রয়োগও গুরুত্বপূর্ণ।

জবাবদিহির কথা মনে রাখার আহ্বান

ইসলামী শিক্ষায় মানুষের দুনিয়ার জীবনকে পরীক্ষার সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, যৌবনের শক্তি, সম্পদ ও অর্জিত জ্ঞান কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে—সেদিকে সচেতন থাকা জরুরি।

কেয়ামতের দিনের জবাবদিহির কথা স্মরণ করে দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলা এবং মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করাই একজন মুসলমানের জন্য কল্যাণের পথ।