৫ বলে তিন উইকেট শরিফুলের, চাপে অস্ট্রেলিয়া
ম্যাকাই টেস্টে দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম। মাত্র পাঁচ বলের ব্যবধানে তিন উইকেটসহ ম্যাচে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেছেন তিনি। তাঁর বোলিং তোপে ১৪৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশকে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট করার পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। দলীয় ২২ রানে ম্যাট রেনশকে তাসকিন আহমেদের বলে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।
এরপর বল হাতে নিজের প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন শরিফুল। ওভারের দ্বিতীয় বলে ট্র্যাভিস হেডকে ইনসাইড এজে বোল্ড করেন তিনি। চার বল পর মার্নাস লাবুশেনকেও বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়াকে ৪১ রানে তিন উইকেটের চাপে ফেলেন এই বাঁহাতি পেসার।
তবে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। দুজনের ৭৭ রানের জুটিতে বাংলাদেশের ওপর পাল্টা চাপ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙেন শরিফুলই। তাঁর বলে স্মিথের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার। অস্ট্রেলিয়া রিভিউ নিলেও আম্পায়ার্স কলে সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ৬টি চারে ৭৪ বলে ৪২ রান করে ফেরেন স্মিথ। ১১৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
এরপর অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে দলের লিড বাড়ানোর চেষ্টা করেন গ্রিন। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫ রানেই ফেরেন ক্যারি। এরপর শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধস। মাত্র তিন রানের মধ্যে চার উইকেট হারায় তারা।
নিজের পরের ওভারে বেউ ওয়েবস্টারকে গোল্ডেন ডাক করান শরিফুল। এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত রিভিউ করেও বদলাতে পারেননি ওয়েবস্টার। দুই বল পর প্যাট কামিন্সকেও ফেরান তিনি। লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।
পরের ওভারে মিচেল স্টার্ককে বোল্ড করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন শরিফুল। মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে তিন উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারকে কার্যত এলোমেলো করে দেন তিনি।
এর আগে স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল ইসলাম। ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পর বল হাতেও তাঁর দাপুটে পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।


