একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে যে ৩ বিষয়ে ইনসাফ রক্ষা করা অপরিহার্য

ধর্ম
একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে যে ৩ বিষয়ে ইনসাফ রক্ষা করা অপরিহার্য
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামে বিশেষ পরিস্থিতিতে পুরুষের একাধিক বিয়ের অনুমতি রয়েছে। তবে এ অনুমতি অবাধ নয়; বরং এর সঙ্গে ন্যায়বিচার, দায়িত্বশীলতা ও আল্লাহভীতির মতো কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ন্যায়বিচার করতে না পারার আশঙ্কা থাকলে একজন স্ত্রী নিয়েই সংসার করার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম।

মহাগ্রন্থ আল কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে (নারী) এতিমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমতো দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চারজনকে বিয়ে করো। কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে কিংবা তোমাদের অধীনস্থ দাসীকে; এটাই হবে অবিচার না করার কাছাকাছি।’ (সুরা নিসা: ৩)

রাজধানীর মিরপুর-১২-এর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের সিনিয়র মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনী বলেন, এই আয়াত থেকে ইসলামে একাধিক বিয়ের বৈধতা যেমন স্পষ্ট হয়, তেমনি এর প্রধান শর্তও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আর তা হলো ‘আদল’ বা ন্যায়বিচার।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তার মতে, একাধিক বিয়ে ইসলামে কোনো বাধ্যতামূলক ইবাদত নয়। বরং প্রয়োজন, পরিস্থিতি ও সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে এটি কারও জন্য মুস্তাহাব, কারও জন্য মুবাহ, কারও জন্য মাকরুহ এবং কারও জন্য হারামও হতে পারে।

ভরণপোষণে সমতা

একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেক স্ত্রীর অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত করা জরুরি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় খরচের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী সমতা বজায় রাখতে হবে।

মুফতি আব্দুর রহমান বলেন, মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আল্লাহ ক্ষমাশীল। কিন্তু যেসব বিষয় মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেগুলোতে ইনসাফ করা অপরিহার্য।

সময় বণ্টনেও ন্যায়বিচার

একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সময় বণ্টনের ক্ষেত্রেও বৈষম্য করা যাবে না। স্ত্রীদের সঙ্গে অবস্থান ও সময় কাটানোর ক্ষেত্রে ন্যায্যতা বজায় রাখতে হবে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে পালাক্রমে সময় বণ্টন করতেন।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফভিত্তিক বণ্টন করে দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! এটা আমার পক্ষ থেকে ইনসাফ, যেটুকু আমার সম্ভব হয়েছে। আর যা আপনার নিয়ন্ত্রণে এবং আমার সাধ্যের বাইরে, সে জন্য আমাকে অভিযুক্ত করবেন না।’ (আবু দাউদ: ২১৩৪)

আচরণেও থাকতে হবে ভারসাম্য

স্ত্রীদের সঙ্গে আচরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার বজায় রাখা জরুরি। একজনের সামনে অন্যজনকে অপমান, অবহেলা কিংবা মানসিকভাবে কষ্ট দেওয়া জুলুমের শামিল।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুজন স্ত্রী থাকাবস্থায় তাদের একজনের প্রতি ঝুঁকে পড়ল, কেয়ামতের দিন সে পঙ্গু অবস্থায় উপস্থিত হবে।’ (আবু দাউদ: ২১৩৩)

ইনসাফই মূল শর্ত

ইসলামের দৃষ্টিতে একাধিক বিয়ের বিধানকে যথেচ্ছাচারের সুযোগ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। বরং বিশেষ প্রয়োজন ও সক্ষমতার ক্ষেত্রে এটি একটি অনুমোদিত ব্যবস্থা, যার সঙ্গে প্রত্যেক স্ত্রীর অধিকার রক্ষার দায়িত্বও যুক্ত।

ন্যায়বিচার ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা না থাকলে একজন স্ত্রী নিয়েই সংসার করার নির্দেশ কোরআনে দেওয়া হয়েছে। ফলে একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে ‘ইনসাফ’ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এবং এর মাধ্যমেই এই ব্যবস্থায় ভারসাম্য নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।