ব্যবসায় লাভ বৈধ, কিন্তু সীমাহীন মুনাফার লোভের বিরুদ্ধে কোরআনের সতর্কতা

ধর্ম
ব্যবসায় লাভ বৈধ, কিন্তু সীমাহীন মুনাফার লোভের বিরুদ্ধে কোরআনের সতর্কতা
১ অক্টোবর ২০২৬

ব্যবসা-বাণিজ্যে লাভ করা স্বাভাবিক ও বৈধ। একজন ব্যবসায়ী পণ্য কিনে তা লাভে বিক্রি করবেন—এটাই ব্যবসার স্বাভাবিক নিয়ম। ইসলামও বৈধ ব্যবসা ও হালাল উপার্জনকে অনুমোদন করেছে। তবে লাভের আকাঙ্ক্ষা যখন সীমাহীন লোভে পরিণত হয়, তখন তা মানুষের নৈতিকতা ও বিবেককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। পণ্যের দাম বাড়ানো, কৃত্রিম সংকট তৈরি, মজুতদারি কিংবা মানুষের প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতার বিরুদ্ধে কোরআনে কঠোর সতর্কতা রয়েছে।

পবিত্র কোরআনের সূরা মুতাফফিফিনের শুরুতেই মাপ ও ওজনে কম দেওয়া ব্যক্তিদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা মাপে কম দেয়।’ এরপর বলা হয়েছে, তারা যখন মানুষের কাছ থেকে মেপে নেয়, তখন পূর্ণমাত্রায় নেয়; কিন্তু যখন মানুষকে মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়। (সূরা মুতাফফিফিন, আয়াত: ১-৩)

আয়াতগুলো মূলত মাপ ও ওজনে প্রতারণাকারীদের বিষয়ে সতর্ক করলেও এর শিক্ষা ব্যবসায়িক সততার বিস্তৃত নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। নিজের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে সচেতন থাকা এবং অন্যের অধিকার দেওয়ার সময় কারচুপি করা—দুই আচরণের মধ্যে বৈষম্য করাকে ইসলাম নিন্দনীয় হিসেবে দেখেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

কোরআনের আরেক আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮) ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার গুরুত্ব এতে স্পষ্ট হয়। মানুষের প্রয়োজন, অসহায়ত্ব বা অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জন এই নীতির পরিপন্থী।

ইসলামে মুনাফা অর্জন নিষিদ্ধ নয়। বরং হালাল পথে উপার্জনকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে লাভের জন্য প্রতারণা, মজুতদারি, ভেজাল, মিথ্যা তথ্য দেওয়া কিংবা ক্রেতার অসহায়ত্বকে কাজে লাগানোর বিষয়টি নৈতিকতার প্রশ্ন তৈরি করে। ব্যবসায়ীর দায়িত্ব হলো পণ্যের প্রকৃত মান, ত্রুটি ও মূল্য সম্পর্কে ক্রেতাকে যথাযথ তথ্য দেওয়া এবং লেনদেনে আমানতদারি বজায় রাখা।

কোরআনে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘তোমরা ন্যায়ের সঙ্গে পরিমাপ প্রতিষ্ঠা করো এবং ওজনে কম দিয়ো না।’ (সূরা আর-রহমান, আয়াত: ৯) ব্যবসায়িক লেনদেনে ন্যায় ও ভারসাম্যের গুরুত্ব এই নির্দেশনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। শুধু পণ্য কেনাবেচায় নয়, জীবনের প্রতিটি লেনদেনেই অন্যের অধিকার যথাযথভাবে দেওয়ার শিক্ষা রয়েছে এতে।

মুনাফার অতিরিক্ত লোভ মানুষকে কখনো এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে, যেখানে সাময়িক আর্থিক লাভের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাস ও সামাজিক দায়িত্ব বিসর্জন দেওয়া হয়। ইসলামের শিক্ষা হলো, সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি তা অর্জনের পদ্ধতিও বৈধ ও ন্যায়সংগত হতে হবে।

একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর কাছে ক্রেতার আস্থা, ন্যায্যতা, সততা ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহির অনুভূতি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। মানুষের চোখ এড়িয়ে কোনো অনিয়ম করা গেলেও আল্লাহর কাছ থেকে কিছুই গোপন থাকে না—এই বিশ্বাস ব্যবসায়িক আচরণে সততা ও আমানতদারির ভিত্তি তৈরি করে।

তাই ব্যবসায় লাভের সঙ্গে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও আমানতদারি যুক্ত করাই কোরআনের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।