শেষ রাতে ইবাদতের বিশেষ সময়, যে আমলে মেলে আল্লাহর নৈকট্য
রাতের নির্জন সময়ে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হওয়ার অন্যতম উত্তম মাধ্যম তাহাজ্জুদ নামাজ। ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আদায় করা এই নফল নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ পান। একই সঙ্গে গুনাহ থেকে বিরত থাকা ও আত্মশুদ্ধির পথও সুগম হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, ‘তোমরা কিয়ামুল লাইলের (তাহাজ্জুদ) প্রতি যত্নবান হও। কেননা তা তোমাদের আগের নেককারদের অভ্যাস এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম। আর তা পাপরাশি মোচনকারী এবং গুনাহ থেকে বাধা দানকারী।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৫৪৯)
ফরজ নামাজের পর নফল নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের নামাজ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৩)
তাহাজ্জুদের সময়
সাধারণত এশার নামাজের পর ঘুমিয়ে রাতের শেষভাগে জেগে তাহাজ্জুদ আদায় করা উত্তম। বিশেষ করে সাহরির সময়ের আগে এ নামাজ আদায়ের সুযোগ রয়েছে। তবে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই তাহাজ্জুদ আদায় করতে হবে।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগেও রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতের নামাজ আদায় করতেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে চাদরে আবৃত, রাতে নামাজে দাঁড়াও, তবে রাতের কিছু অংশ ছাড়া—রাতের অর্ধেক অথবা তার থেকে কিছুটা কম কিংবা তার চেয়ে বাড়াও এবং ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে কোরআন পাঠ করো।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত: ১-৪)
তাহাজ্জুদের নিয়ত
তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ নিয়ত আবশ্যক নয়। আরবিতে নিয়ত করাও জরুরি নয়। মনে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের ইচ্ছা থাকাই নিয়তের জন্য যথেষ্ট। নামাজে দাঁড়ানোর সময় ব্যক্তি যে তাহাজ্জুদ আদায় করছেন—এ বিষয়ে সচেতন থাকাই নিয়তের জন্য যথেষ্ট।
যেভাবে আদায় করবেন
তাহাজ্জুদ নফল নামাজ এবং অন্যান্য নফল নামাজের মতোই এর আদায়ের নিয়ম। সাধারণত দুই রাকাত করে এ নামাজ আদায় করা হয়। দুই রাকাত করে সামর্থ্য অনুযায়ী যত বেশি পড়া যায়, তা আদায় করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো রাকাতসংখ্যা বাধ্যতামূলক নয়।
তাহাজ্জুদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সুরা নির্ধারিত নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ কিরাতের মাধ্যমে রাতের নামাজ আদায় করতেন। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী কোরআনের দীর্ঘ অংশ তিলাওয়াত করা উত্তম।
পরিবারকেও ইবাদতে উৎসাহ
তাহাজ্জুদ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের সুযোগ নয়, পরিবারের সদস্যদেরও রাতের ইবাদতে উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ওই ব্যক্তির ওপর রহমত নাজিল করেন, যে রাতে নিদ্রা থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে এবং তার স্ত্রীকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দেয়। এরপর সে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৩০৮)
তাই রাতের শেষভাগে ঘুম থেকে উঠে কিছু সময় আল্লাহর ইবাদতে কাটানো একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনন্য সুযোগ হতে পারে। নিয়মিত তাহাজ্জুদের মাধ্যমে ইবাদতের প্রতি মনোযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি আত্মশুদ্ধির চর্চাও করা সম্ভব।


