ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগ হয়েছে: গোলাম পরওয়ার
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন গোলাম পরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
সারের ডিলার নিয়োগে ঘুষ, দুর্নীতি, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, বিএনপির নেতারা অর্থের বিনিময়ে, দলীয় পরিচয় ও আত্মীয়তার সূত্রে বিভিন্ন এলাকায় ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন। এসব অনিয়মের কারণে দেশে সার সংকট তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশে সারের মজুত চাহিদার চেয়ে বেশি থাকলে কৃষকদের মধ্যে সারের জন্য হাহাকার কেন? তাঁর অভিযোগ, ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সারের ডিলার নিয়োগে জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনজনকে মনোনীত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন এলাকায় অর্থের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে দলীয় প্যাডে তৈরি তালিকা অনুসরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের অব্যবস্থাপনা, ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি, কালোবাজারে সার বিক্রি এবং চোরাচালানের কারণে সার সংকট দেখা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের বক্তব্যের সমর্থনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর তুলে ধরা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও রংপুরের পীরগাছায় অর্থ লেনদেন, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১০ লাখ টাকা দিয়েও ডিলারশিপ না পাওয়ার দাবি, ভুয়া গোডাউন ও জাল চুক্তিনামা ব্যবহার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বরিশালে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের স্বজনদের ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, ডিলার নিয়োগের নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দা হতে হয় এবং নিজস্ব গোডাউন ও আর্থিক সক্ষমতা থাকতে হয়। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির ডিলারশিপ পাওয়ার সুযোগও নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর অভিযোগ, এসব শর্ত লঙ্ঘন করে অন্য এলাকার বাসিন্দাদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এমনকি সার ব্যবসার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা ব্যক্তি এবং ভুয়া গুদাম বা চুক্তিনামা ব্যবহারকারীরাও ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপ কাজ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, দিনাজপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের নির্দেশনায় দলীয় নেতা-কর্মীদের তালিকার শীর্ষে রাখা এবং জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের নাম বাদ দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়েছিল। রাজশাহীর কয়েকটি উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তারা বিএনপির সংসদ সদস্যদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী নিয়োগের কথা স্বীকার করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
শুধু বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় সার সংকট হচ্ছে—প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এমন বক্তব্য নাকচ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর অনুসন্ধানে বিএনপির ১৪ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায়ও সার সংকটের তথ্য উঠে এসেছে।
ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রকাশ্যে যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগের দাবিসহ ছয় দফা দাবি জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সার সংকট নিয়ে সরকার জনগণকে অসত্য তথ্য দিয়েছে। গত ছয় থেকে সাত মাসে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয়করণ, দুর্নীতি এবং মন্ত্রীদের বক্তব্য নিয়ে জামায়াত উদ্বিগ্ন বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গেও কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণভোটে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে আগামী সংসদ অধিবেশনে সরকার বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


