শত্রুর সঙ্গেও ন্যায়বিচার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি
শত্রুর সঙ্গেও ন্যায়বিচার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম
২৭ অক্টোবর ২০২৬

পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক বিরোধী হলেও সবার মানবিক মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ করার চর্চা করতে হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, জানাজা পড়া ও লাশ দাফনের অধিকার যেকোনো মানুষের ন্যূনতম মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এই অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অতীতের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পিয়াস করিম ও আল মাহমুদের মরদেহ শহীদ মিনারে নিতে দেওয়া হয়নি এবং সাধারণ মানুষকে শ্রদ্ধা জানাতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। বিরোধী দলের অনেক নেতার জানাজাও ঢাকায় আয়োজন করতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকায় তোফায়েলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এনসিপির এই নেতা।

নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম রহমতুল্লাহর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়া এবং সংসদীয় রীতি অনুযায়ী শোক প্রকাশের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকারের পক্ষেও তাঁরা কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতেও বলবেন। তাঁর ভাষায়, ‘কারণ শত্রুর সাথে আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে।’

মানবাধিকার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমানে অনেকে মানবাধিকারের কথা বললেও গত ১৬ বছরে অনেকে এ বিষয়ে নীরব ছিলেন। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর দেশজুড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারও হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে মরদেহ নিয়ে উপহাস, কবর ভাঙচুর এবং জানাজায় বাধা দেওয়ার ঘটনাকে স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা হয়েছিল। শহীদ ওসমান হাদির কবর উৎখাতের পক্ষে জনসম্মতি তৈরির প্রচেষ্টাও দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতের এসব ঘটনার পরও একই পথ অনুসরণ করা যাবে না। বরং ফ্যাসিবাদের বিপরীতে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তিনি সব নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের পক্ষে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।