আবু সাঈদ হত্যা: ৩০ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু
রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বুধবার (৬ আগস্ট) এ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলায় অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি চলে গত ২৮ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে সকল আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর অনুরোধ জানানো হয়। চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুনানিতে বলেন, “আবু সাঈদকে একটি পরিকল্পিত হত্যার মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করা হয়। এর পেছনে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন নেতা—যাদের পরিচয় এবং ভূমিকা এখন প্রমাণিত।”
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড় এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। তিনি ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। সহপাঠীরা দাবি করে আসছিলেন—সাঈদের মৃত্যু ছিল ‘টার্গেটেড কিলিং’। মামলাটি গণআন্দোলনের অন্যতম ইস্যুতে পরিণত হয়।
৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত শুনানিতে আসামিপক্ষের তিনজনের পক্ষে আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন জানান। তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর মো. শরিফুল ইসলাম, পুলিশ কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ।
তাদের পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তি দেন—এদের বিরুদ্ধে প্রমাণ যথেষ্ট নয়। তবে ট্রাইব্যুনাল শুনানি শেষে জানান, অভিযোগ গঠনের পর্যাপ্ত ভিত্তি রয়েছে। তাই ৩০ আসামির বিরুদ্ধেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হবে।
বুধবার সকালেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ৬ জন আসামিকে প্রিজন ভ্যানে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। শুনানি শেষে বিচার প্রক্রিয়ার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।


