পুলিশ সদস্যকে আটকে রেখে চাঁদা দাবি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

অপরাধ
পুলিশ সদস্যকে আটকে রেখে চাঁদা দাবি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার
নিউজ ডেস্ক
২১ অক্টোবর ২০২৫

দেবিদ্বারে এক পুলিশ সদস্যকে আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক এক নেতা ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—দেবিদ্বার পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বিল্লু (৩০) ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জালাল উদ্দিন (৩২)।

সোমবার (২০ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লা ডিবি ও দেবিদ্বার থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ঢাকার আদাবর থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দুপুরে কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা পুলিশের সদস্য আবু কাউছার সম্প্রতি নিজের চাচি আমেনা বেগমের (৪৫) আমন্ত্রণে জমি দেখার উদ্দেশ্যে দেবিদ্বারে আসেন। জমি দেখার পর ফিরে যেতে চাইলে, তাকে কৌশলে আলমপুর এলাকার এক বাসার পাঁচতলায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সেখানে পৌঁছানোর পর, বিল্লুর নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে তাকে কক্ষে আটকে রাখে। কিছুক্ষণ পর সেখানে হাজির হন কাউছারের সাবেক স্ত্রী তাছলিমা আক্তার। অভিযোগ রয়েছে, তারা সবাই মিলে কাউছারকে পুনরায় বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং ভিডিও ধারণ করে তা ফাঁস করার হুমকি দেন। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য পরে বাধ্য হয়ে নগদ ১৩ হাজার টাকা, প্রায় ৫০ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার, এবং বিকাশের মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এরপরও নির্যাতন থামেনি। পরে তার স্ত্রী ইশরাত জাহান খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় ইশরাত জাহান বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ৬ জনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন—তাছলিমা আক্তার, আমেনা বেগম, বিল্লাল হোসেন বিল্লু, কানা জালাল, কামাল হোসেন ও হেলাল খান।

দেবিদ্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাইনউদ্দিন জানান, “এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

ঘটনার সঙ্গে বিএনপি-স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতার সম্পৃক্ততা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।