এসএসসির উত্তরপত্রে কারসাজিতে প্রধান শিক্ষক ও সহযোগী গ্রেফতার

অপরাধ
এসএসসির উত্তরপত্রে কারসাজিতে প্রধান শিক্ষক ও সহযোগী গ্রেফতার

এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রে অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে যশোরের শার্শা উপজেলার একটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে এক প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষা অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন এবং একই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুন।

শনিবার (৯ মে) সকালে শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত শেষে তাদের আটক করা হয়। পরে রাতে পাবলিক পরীক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তদন্ত সূত্র জানায়, শাহানারা খাতুনের মেয়ে অহনা খাতুন চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার কুলবাড়িয়া বিকেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার পর কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন গোপনে মেয়ের উত্তরপত্র সংগ্রহ করেন। পরে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের সহায়তায় উত্তরপত্রের কিছু অংশে সংশোধন এনে তা পুনরায় বোর্ডে জমা দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও একপর্যায়ে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় তাৎক্ষণিকভাবে দুইজনকে আটক করা হয়।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান বলেন, পাবলিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।

শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৮, ৯, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যেখানে একজন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা, সেখানে তার বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।