রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন শেয়ার জালিয়াতি মামলায় আসামি করা হয় সাহাবুদ্দিনকে!

অপরাধ
রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন শেয়ার জালিয়াতি মামলায় আসামি করা হয় সাহাবুদ্দিনকে!
২৭ জুলাই ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছেন সদ্য দায়িত্ব ছাড়ানো রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। মামলায় তারসহ মোট ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে মামলার নথিতে থাকা ‘মো. শাহাবুদ্দিন’ নামটি সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকেই নির্দেশ করে কি না, তা নিয়ে শুরুতে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হলেও মামলার বাদী দাবি করেছেন, আসামি তিনিই।

মামলাটি করেন ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ। ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) বাদী আবদুচ ছামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তদন্ত প্রতিবেদন ১১ আগস্ট

সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখ ছিল গত ২৩ জুন। তবে নির্ধারিত দিনে দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত আগামী ১১ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

কারা রয়েছেন আসামির তালিকায়

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম), ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, ইসলামী ব্যাংকের একাধিক সাবেক পরিচালকসহ মোট ২০ জন।

এজাহারে ১২ নম্বর আসামি হিসেবে ‘মো. শাহাবুদ্দিন’-এর পরিচয় দেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক হিসেবে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি এস আলম ও আবদুল ওয়াহেদের যোগসাজশে নির্বাচিত পরিচালক ছিলেন।

পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা

মামলার নথিতে থাকা ‘মো. শাহাবুদ্দিন’ সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি কি না—এ বিষয়ে আদালতের কর্মকর্তা ও বাদীপক্ষের আইনজীবী নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যে তালিকা দিয়েছে, তার ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামি হিসেবে উল্লেখ করা ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি কি না, সে বিষয়ে তার কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই।

অন্যদিকে মামলার বাদী আবদুচ ছামাদ বলেন, ঘটনার সময় তিনি ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্বে ছিলেন এবং তার ধারণা, এজাহারে উল্লেখ করা ব্যক্তি সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতিই।

অভিযোগে যা বলা হয়েছে

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র ৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড ২৫১ কোটি টাকা মূল্যের ইসলামী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করে, যা ব্যাংকটির মোট শেয়ারের প্রায় ৪.৮১৬ শতাংশ।

এজাহারে দাবি করা হয়েছে, কোম্পানিটির আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে এত বড় বিনিয়োগের কোনো সামঞ্জস্য ছিল না। পরিকল্পিতভাবে পারস্পরিক যোগসাজশে জনগণের অর্থ ব্যবহার করে এই শেয়ার অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করা হয়। শেয়ার কেনাবেচার তারিখ ও অর্থের উৎস বিশ্লেষণে পুরো প্রক্রিয়াটি পূর্বপরিকল্পিত বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনগণের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

মামলা দায়েরের পর আদালত মো. সাহাবুদ্দিন ছাড়া অপর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এটি একটি বিচারাধীন মামলা। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান। অভিযুক্তরা আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।