এক লাফে ১০৭ ডলার ছাড়াল তেলের দাম
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বা ২ দশমিক ৯০ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৫১ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২ দশমিক ২৭ শতাংশ বা ২ দশমিক ২৭ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ দশমিক ৩২ ডলারে। বাজার খোলার সময় দুই ধরনের তেলের দামই ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
সৌদি আরবে নতুন করে হুথি হামলা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার খবর এবং সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। চলমান সংঘাতের কারণে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় এই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
এদিকে ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব তাদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। সৌদি আরব ও ইরাক জানিয়েছে, হামলাটি ইরাক থেকে চালানো হয়েছিল। ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা রয়েছে।
প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি আরব উপদ্বীপের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের তেল লোহিত সাগরীয় অঞ্চলে পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর গত ছয় মাসে বৈশ্বিক বাজারে সৌদি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে পাইপলাইনটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাইপলাইনটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। এই পরিমাণ বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান।
ফলে পাইপলাইনটির কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।


