তরল দুধের দাম বেড়েছে লিটারে ১০ টাকা, বাড়ল প্রায় সব ব্র্যান্ডেই

তরল দুধের দাম বেড়েছে লিটারে ১০ টাকা, বাড়ল প্রায় সব ব্র্যান্ডেই

ছবি: সংগৃহীত

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের মধ্যে এবার প্যাকেটজাত তরল দুধের দামও বেড়েছে। বাজারে প্রায় সব ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিয়মিত পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উৎস দুধ কিনতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। তাদের কেউ কেউ বলছেন, মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিয়মিত দুধ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি কয়েকটি পরিবারের শিশুদের দুধ খাওয়ানোর পরিমাণও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা।

গত মাসে মিল্কভিটার আধা লিটার প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়। একই সময়ে এক লিটারের প্যাকেটের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১১০ টাকা।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সম্প্রতি অন্যান্য ব্র্যান্ডের তরল দুধের দামও বেড়েছে। ফার্ম ফ্রেশ, আড়ং ও প্রাণ ডেইরির আধা লিটার দুধ বর্তমানে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব ব্র্যান্ডের এক লিটারের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে।

দুধের মূল্যবৃদ্ধিতে অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, দুধ দৈনন্দিন পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস হলেও ধারাবাহিক দাম বাড়ার কারণে অনেক পরিবারের জন্য এটি নিয়মিত কেনা কঠিন হয়ে উঠছে।

রাজধানীর রামপুরা এলাকায় দুধ কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, দুধ সুষম খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোটবেলা থেকেই এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। তাই একবারে এভাবে দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি।

আরেক ভোক্তা জানান, আগে তিনি তার শিশুকে নিয়মিত দুধ খাওয়াতেন। কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিশুকে নিয়মিত দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।

খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, দাম বাড়ার পর তরল দুধের বিক্রি কমেছে। তাদের অভিযোগ, প্রায় সব ব্র্যান্ডের দুধের দাম একসঙ্গে লিটারপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

তবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণেই দুধের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। প্যাকেজিং উপকরণ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে।

মিল্কভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল বলেন, প্যাকেজিং উপকরণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সঙ্গে গ্যাস ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে চলছিল। তাই বাধ্য হয়ে দুধের দাম বাড়াতে হয়েছে।

মিল্কভিটার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, কৃষক পর্যায়ে দুধের ক্রয়মূল্যও লিটারপ্রতি ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের মধ্যে তরল দুধের নতুন মূল্য নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ভোক্তাদের দাবি, পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ এই খাদ্যপণ্যটির দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হোক।