এক বছরের মধ্যেই বদলে যাবে দেশের পুঁজিবাজারের চেহারা: অর্থমন্ত্রী

এক বছরের মধ্যেই বদলে যাবে দেশের পুঁজিবাজারের চেহারা: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

৫ অক্টোবর ২০২৬

আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পুঁজিবাজার পুনরুজ্জীবিত ও সম্প্রসারণে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অটোমেশন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও আইওএসসিও যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আমির খসরু বলেন, ‘আমরা সামগ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক বছরের মধ্যে আপনারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পরিবর্তিত চেহারা দেখতে পাবেন।’

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন, অটোমেশন, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) প্রতিষ্ঠা ও অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও পরবর্তী সময়ে পুঁজিবাজার প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এখন বাস্তবভিত্তিক ‘উদ্ধার’ ও ‘পুনরুদ্ধার’ কার্যক্রম প্রয়োজন। এজন্য কিছু অংশীজনের ক্ষেত্রে কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকনির্ভর অর্থায়ন ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজার, বন্ড মার্কেট, ডেরিভেটিভস, সিকিউরিটাইজেশন ও ইক্যুইটি মার্কেটকে শক্তিশালী করতে হবে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্চ সুদে ব্যাংকঋণের পরিবর্তে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। উন্নয়ন অর্থায়নে শুধু বৈদেশিক ঋণ বা উন্নয়ন সহযোগীদের ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকেও অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে ডলার বন্ড, পাণ্ডা বন্ড, সামুরাই বন্ড এবং বাংলাদেশকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ইক্যুইটি ফান্ডের মতো আর্থিক উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইএমএফ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, সংস্থাটির কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে, কারণ তাদের শর্তগুলো সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও পুঁজিবাজার নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে একক কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, বিমা খাত, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকার ও আর্থিক প্রতিবেদনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সুশাসন, স্বচ্ছতা ও কার্যকর আত্মনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।