বাণিজ্যমন্ত্রী

রমজান ঘিরে পণ্যের সংকট তৈরির আশঙ্কা নেই, দাম বাড়ছে না ভোজ্যতেলের

রমজান ঘিরে পণ্যের সংকট তৈরির আশঙ্কা নেই, দাম বাড়ছে না ভোজ্যতেলের
২৮ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত আমদানির প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের সংকট তৈরির আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ এবং রমজানে সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত আমদানি পাইপলাইনে রয়েছে। ফলে রমজানের আগে, চলাকালে কিংবা পরে পণ্যের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে মনে করছে সরকার।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও জাহাজভাড়ার ওঠানামা আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারে মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই

রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আপাতত দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কোনো আমদানিকারক এলসির মার্জিন কিংবা অন্য কোনো ব্যাংকিং জটিলতায় পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শুরু

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া প্রথম দফার আলোচনা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তিনি।

২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এলডিসি উত্তরণে বাণিজ্য চুক্তির ওপর গুরুত্ব

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা জরুরি।

তাঁর মতে, এসব চুক্তি তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।