রমজান–ঈদ ও নির্বাচনী ছুটিতে মাদ্রাসায় দেড় মাসের বিরতি, ক্লাস শুরু ২৯ মার্চ
পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর, মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দেশের সব মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা প্রায় দেড় মাসের দীর্ঘ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ প্রকাশিত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, মাদ্রাসাগুলোর এই ছুটি শুরু হবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং চলবে ২৬ মার্চ পর্যন্ত।
তবে এর আগেই সংসদ নির্বাচন ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শিক্ষার্থীরা কার্যত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকেই ধারাবাহিক ছুটির সুবিধা পেতে শুরু করবে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দীর্ঘ এই ছুটি শেষে ২৯ মার্চ থেকে মাদ্রাসাগুলোতে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবছর রমজান, স্বাধীনতা দিবস, জুমাতুল বিদা, লাইলাতুল কদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মাদ্রাসায় সর্বোচ্চ ৩০ দিনের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। নির্বাচনী ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলো যুক্ত হওয়ায় এই বিরতি দেড় মাসে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ মিলিয়ে দ্বিতীয় দফায় ১৫ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২৪ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত চলবে। সব মিলিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে মাদ্রাসাগুলোতে মোট ৭০ দিন ছুটি থাকবে, যা আগের বছরের তুলনায় পাঁচ দিন কম।
এদিকে সাধারণ স্কুল ও কলেজেও ফেব্রুয়ারি মাসে টানা কয়েক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি, এরপর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটি এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রি ব্রত থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১১ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে।
তবে মাদ্রাসার ক্ষেত্রে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকেই রমজানকেন্দ্রিক দীর্ঘ ছুটি শুরু হওয়ায় সাধারণ স্কুল-কলেজের তুলনায় তারা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সময়ের বিরতি পাচ্ছে। গত ২০ জানুয়ারি জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই ছুটির তালিকা দেশের তিনটি সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাসহ সব বেসরকারি ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার জন্য প্রযোজ্য হবে।
নির্বাচন ঘিরে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করতে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকেই বিশেষ ছুটি কার্যকর করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব ছুটির মাধ্যমে নাগরিকদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসগুলো যথাযথ মর্যাদায় পালনের সুযোগ পাবে।


