৩২ বছরের পুরোনো প্রযুক্তি থেকে সরে আসছে শিক্ষা বোর্ড, ফল তৈরিতে নতুন পদ্ধতি

সকল বোর্ডে এবার পুরনোর পাশাপাশি নতুন পদ্ধতিতে ফলাফল তৈরি করা হচ্ছে- আন্তঃশিক্ষাবোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক

শিক্ষা
৩২ বছরের পুরোনো প্রযুক্তি থেকে সরে আসছে শিক্ষা বোর্ড, ফল তৈরিতে নতুন পদ্ধতি
২৭ অক্টোবর ২০২৬

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল তৈরিতে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে ব্যবহৃত ডস পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন উইন্ডোজ পদ্ধতি চালু করেছে দেশের সব শিক্ষা বোর্ড। ফলাফল তৈরির প্রক্রিয়া আরও নির্ভুল, আধুনিক ও নিরাপদ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল তৈরিতে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আপাতত পুরোনো পদ্ধতিও বহাল থাকছে। দুই পদ্ধতিতে তৈরি ফলাফল মিলিয়ে দেখার পর ভবিষ্যতে একটি পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড তথা আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু জানান, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী এবার সব শিক্ষা বোর্ডে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরোনো পদ্ধতিতেও ফলাফল তৈরি করা হচ্ছে, যাতে দুই পদ্ধতির ফলাফলে কোনো অসংগতি আছে কি না, তা যাচাই করা যায়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপদ ও নির্ভুল ফলাফল তৈরির কাজ চলছে।

নতুন প্রযুক্তিতে অনিয়ম শনাক্ত সহজ হবে

পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল তৈরিতে নম্বর পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ অতীতেও উঠেছে। গত এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের একজন শিক্ষার্থীর একটি বিষয় ছাড়া অন্য সব বিষয়ের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষার সময়ও ওই বোর্ডের ৩৪টি খাতার নম্বরপত্র বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলের ফলাফলে ১১টি পত্রের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়, যা এখনো বিচারাধীন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন প্রযুক্তিতে কে কখন কী কাজ করছেন, তার রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। ফলে ফলাফল তৈরির প্রক্রিয়ায় অনিয়ম শনাক্ত করা সহজ হবে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী জানান, এবার সব বোর্ডেই আধুনিক প্রযুক্তিতে ফলাফল তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, নতুন পদ্ধতিতে অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।

ডস থেকে উইন্ডোজ পদ্ধতিতে

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট বিকাশ চন্দ্র মল্লিক জানান, ১৯৯৪ সাল থেকে দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলো ডস পদ্ধতিতে পরীক্ষার ফলাফল তৈরি করে আসছে। সে সময় বুয়েট এ পদ্ধতি তৈরি করে দিয়েছিল।

প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ পরে উইন্ডোজনির্ভর নতুন ফলাফল তৈরির সফটওয়্যার চালু করে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষা থেকে এবং কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষা থেকে পুরোনো পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন পদ্ধতিতে ফলাফল তৈরি করে আসছে।

নতুন পদ্ধতিতে তথ্য ইনপুট দেওয়ার পর কমান্ড দ্রুত কার্যকর হয়। পাশাপাশি উন্নত লগইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড করা যায়। এতে ফলাফল তৈরির নিরাপত্তা ও জবাবদিহি বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।

দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেন্টারের কর্মকর্তাদের এ পদ্ধতি ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দিয়েছে বুয়েট।

ভবিষ্যতে একটি পদ্ধতি ব্যবহারের পরিকল্পনা

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ফলাফল তৈরির প্রক্রিয়া নির্ভুল ও আধুনিক করতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ জন্য সব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

তবে নতুন পদ্ধতি স্থায়ীভাবে চালু হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুই পদ্ধতির ফলাফল যাচাই এবং নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতা মূল্যায়নের পর এ বিষয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

গত ২ জুলাই শুরু হওয়া এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের কথা থাকলেও সেই তারিখ পরিবর্তন করে ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।