গাজার পক্ষে উত্তাল বিশ্ব: প্লেট-চামচে প্রতিবাদ, পতাকায় প্রতিরোধের বার্তা
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও অবরোধ যতই তীব্র হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রতিরোধের সুর। ধ্বংস, ক্ষুধা আর অনাহারে বিপর্যস্ত উপত্যকার জন্য এবার রাজপথে, সভায়-সমাবেশে, এমনকি প্লেটের চামচেও প্রকাশ পাচ্ছে প্রতিবাদ।
ধ্বনি, প্রতীক আর দৃঢ় বার্তায় মানুষ জানিয়ে দিচ্ছে—“গাজা একা নয়।”
বৃটেনের রাজধানী লন্ডনের রাজপথে সম্প্রতি দেখা যায় এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ। বিক্ষোভকারীরা হাতে প্লেট ও চামচ নিয়ে সড়কে বসে ত্রাণ প্রত্যাশী গাজাবাসীর প্রতি সহানুভূতি জানান। প্রতীকীভাবে তারা চামচ দিয়ে প্লেটে আঘাত করে জানান—“আমরা শুনছি, দেখছি এবং বলছি—এই নিপীড়ন থামাও।”
এক বিক্ষোভকারী বলেন,
“গণহত্যা হচ্ছে আর আমরা চুপ থাকতে পারি না। গাজার শিশুরা না খেয়ে মরছে, এটা যুদ্ধ নয়—এটা হত্যাযজ্ঞ।”
শুক্রবার ইয়েমেনের রাজধানী সানায় অনুষ্ঠিত হয় বিশাল এক মহাসমাবেশ। হাজার হাজার মানুষ গাজার পক্ষে রাস্তায় নেমে আসেন। হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা, মুখে শ্লোগান—“আমরা পিছু হটবো না, ভয় পাবো না।”
সমাবেশে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন,
“আমরা গাজাকে রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইসরায়েল শুধু ভূখণ্ড নয়, পুরো জাতিকেই ধ্বংস করতে চায়।”
লেবাননের বৈরুতে হাজারো মানুষ কেফায়া জড়িয়ে গাজার মুক্তির দাবিতে মিছিল করেন। একই সময়ে লাতিন আমেরিকার চিলিতে সান্তিয়াগোর রাস্তায় শত শত গাড়ি চলে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়িয়ে। জনতার শ্লোগানে মুখর হয় শহরটি।
এক চিলিয়ান আন্দোলনকারী বলেন,
“মানবতা আজ একটাই দাবি করছে—গাজায় জীবন রক্ষা করো, নিষ্ঠুরতা বন্ধ করো।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজা নিয়ে যে প্রতিক্রিয়া বিশ্বের নানা প্রান্তে দেখা যাচ্ছে, তা প্রমাণ করে—এই সংকট কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সীমায় আবদ্ধ নয়। এটি আজকের এক গ্লোবাল কনসার্ন। প্রতিটি প্রতিবাদেই উঠে আসছে একই আহ্বান—“অবরোধ সরাও, সহিংসতা থামাও, মানবিকতা ফিরিয়ে আনো।”


