এপস্টাইনের গোপন ফাইলে শেখ হাসিনা: পর্দার আড়ালে কী ছিল সেই রহস্যময় ‘সমঝোতা’?

এপস্টাইনের গোপন ফাইলে শেখ হাসিনা: পর্দার আড়ালে কী ছিল সেই রহস্যময় ‘সমঝোতা’?
নিউজ ডেস্ক
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মার্কিন ধনকুবের এবং কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের মৃত্যুবরণ করার বছর পেরিয়ে গেলেও তার ফেলে যাওয়া ‘প্যান্ডোরা বক্স’ থেকে একের পর এক বেরিয়ে আসছে বিশ্বনেতাদের নাম। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক অবমুক্ত করা প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম। নথিতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, এপস্টাইন নেটওয়ার্কের সাথে হাসিনার এক গভীর ও ধোঁয়াশাপূর্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

প্রকাশিত নথির সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশটি হলো ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের একটি ঘটনাপ্রবাহ। সেই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই সময়েই এপস্টাইনের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী লেসলি গ্রফকে পাঠানো একটি ইমেইলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম উঠে আসে।

ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নরওয়ের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোর্জ ব্রেন্ডের মধ্যস্থতায় একটি ‘অপ্রকাশিত বিষয়ে’ হাসিনার সাথে সমঝোতা হয়েছে। নথিতে ব্যবহৃত ‘bilat’ (bilateral) শব্দটি একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ইঙ্গিত দেয়। প্রশ্ন উঠেছে, একজন আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারীর ব্যক্তিগত সহকারীর কাছে কেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক বা অপ্রকাশিত সমঝোতার খবর থাকবে? সরকারি কোনো নথিতে নরওয়ের সাথে তৎকালীন সময়ে এমন কোনো চুক্তির উল্লেখ না থাকায় এই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নথিগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এপস্টাইন কেবল একজন যৌন অপরাধীই ছিলেন না, বরং তিনি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে প্রভাব খাটিয়ে অর্থ পাচার ও ডেটা সংগ্রহের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। বাংলাদেশকে তিনি তার স্বার্থসিদ্ধির অন্যতম চারণভূমি হিসেবে বেছে নিতে চেয়েছিলেন।

এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বাসভবন এবং তার কুখ্যাত দ্বীপে (Little St. James) কাজের জন্য বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার অন্যতম সাক্ষী আলফ্রেডো রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এপস্টাইনের ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় একটি ‘বাংলাদেশি দম্পতি’ নিয়োজিত ছিলেন। এই দম্পতি কারা এবং এপস্টাইনের অন্ধকার জগতের কতটুকু তারা জানতেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখনো কাজ করছে।

নথিতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও এসেছে। তবে এটি শেখ হাসিনার মতো কোনো ‘গোপন সমঝোতা’ বা নেতিবাচক কোনো বিষয়ে নয়। বরং বিশ্বখ্যাত কার্টুন সিরিজ ‘দ্য সিম্পসনস’-এ তার উপস্থিতি এবং কার্টুনিস্ট ম্যাট গ্রোনিং-এর সাথে তার সৌজন্যমূলক পরিচয়ের বিষয়টি নথিতে তথ্য হিসেবে ছিল। একইভাবে ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর নাম রাজনৈতিক অনুদান তালিকায় থাকলেও তার সাথে এপস্টাইনের সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিদেশি লবিস্ট নিয়োগ এবং অন্ধকার জগতের প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যের যে অভিযোগ দীর্ঘদিনের, এপস্টাইন ফাইল তার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক স্তরে কার কার সাথে এমন ‘অন্ধকার সমঝোতা’ করা হয়েছিল, তা তদন্তের দাবি রাখছে বর্তমান সময়ের ছাত্র-জনতা।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার এই তথাকথিত ‘গোপন সমঝোতা’র স্বরূপ উন্মোচন এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে আরও নথি অবমুক্ত হলে এই রহস্যের জট আরও খুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।