গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম নিহত, লিবিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা

গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম নিহত, লিবিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা
নিউজ ডেস্ক
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। লিবিয়ায় অবস্থানরত আল জাজিরার সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা জানান, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে সাইফ আল-ইসলাম জিনতানেই বসবাস করছিলেন। তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও হত্যার বিস্তারিত পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়।

এ ঘটনায় লিবিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলাম কখনোই লিবিয়ার রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক কোনো পদে ছিলেন না। তবে ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সময়কালে তিনি কার্যত তার বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ঘনিষ্ঠতম সহযোগী ও ‘নম্বর টু’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১১ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় গাদ্দাফি নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে।

ত্রিপোলি পতনের পর দেশ ছাড়ার চেষ্টাকালে ২০১১ সালে সাইফ আল-ইসলামকে জিনতান থেকে আটক করা হয় এবং সেখানে দীর্ঘদিন কারাবন্দি রাখা হয়। পরে ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পান তিনি।

পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত ও সাবলীল বক্তা হিসেবে পরিচিত সাইফ আল-ইসলাম তার বাবার কঠোর শাসনের তুলনায় তুলনামূলকভাবে সংস্কারপন্থী ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন। লিবিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (এলএসই) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

আরব বসন্তের সময় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে সাইফ আল-ইসলাম প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, লিবিয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত অনিবার্য। সে সময় রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার শেষ মানুষ ও শেষ গুলি পর্যন্ত লড়াই করবে।

তার বিরুদ্ধে গাদ্দাফি শাসনামলে বিরোধীদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতায় জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ সালে জাতিসংঘ তাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং একই বছর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাকে অভিযুক্ত করে।

২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত অনুপস্থিত অবস্থায় তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। মুক্তির পর সম্ভাব্য হত্যার আশঙ্কায় তিনি দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছেন লিবীয় বিশ্লেষকরা।

সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলে লিবিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।