হরমুজ প্রণালির সংকট মেটাতে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিভিন্ন দেশকে এ জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা।
গত ২৮ এপ্রিল দেওয়া এক বার্তায় জানানো হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ‘ম্যারিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ (এমএফসি) নামে একটি নতুন উদ্যোগ অনুমোদন করেছেন। এটি পেন্টাগন এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের যৌথ উদ্যোগ।
বার্তায় বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত-পরবর্তী সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের অধিকার বজায় রাখা সম্ভব হবে।
উদ্যোগ অনুযায়ী, স্টেট ডিপার্টমেন্ট কূটনৈতিক যোগাযোগ সমন্বয় করবে, আর ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সরাসরি জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে।
দুই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর শুরু হওয়া ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাতের জেরে প্রণালিটি অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৫ ডলার ছাড়িয়েছে।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের তেল রপ্তানিতে নৌ অবরোধ জোরদারের পরিকল্পনা করছে বলেও জানা গেছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা চলছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা ‘অভূতপূর্ব সামরিক পদক্ষেপ’ নেবে এবং প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও ব্যাহত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়বে এবং জ্বালানির মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


