সাহায্য নয়, ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল; নজরে ভারতসহ তিন দেশ

সাহায্য নয়, ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল; নজরে ভারতসহ তিন দেশ
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপালকে ইতোমধ্যে দুই দফায় প্রায় সাড়ে ৪৭ টন ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে ভারত। ভারতীয় বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজে করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হলেও এবার জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ নিয়ে বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর প্রতি কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে কাঠমান্ডু।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি মনে করেন, নেপালের সাম্প্রতিক বন্যা, হড়পা বান ও ভূমিধসকে কেবল আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এসব বিপর্যয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কান্তিপুর টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খানাল জানান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেপালের কূটনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি আরও জোরালোভাবে তোলা হতে পারে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

‘এটি দাতব্য নয়, দায়বদ্ধতার বিষয়’

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় সহায়তার বিষয়টিকে কেবল দাতব্য হিসেবে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও রয়েছে। তার মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে নেপালের অবদান খুবই কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দেশটিকে ব্যাপকভাবে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

খানালের বক্তব্য অনুযায়ী, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টি বিবেচনা করছে নেপাল। এসব দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তার মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব হিমালয়ের হিমবাহ, নদী, পাহাড় ও মৌসুমি বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে। ফলে নেপালের মতো পাহাড়ি দেশগুলোতে দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

হিমবাহ গলনে বাড়ছে ঝুঁকি

নেপালের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে পাহাড়, নদী, হিমবাহ ও মৌসুমি বৃষ্টিপাতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় হিমালয় অঞ্চলের বিভিন্ন হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়ছে। একই সঙ্গে হড়পা বান ও ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপালে একের পর এক বন্যা, ভূমিধস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছে দেশটির সরকার।

কাঠমান্ডুর অবস্থান হলো, দুর্যোগের পর কেবল ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। জলবায়ু পরিবর্তনে তুলনামূলকভাবে বেশি দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে দুর্যোগের সময় নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। ইতোমধ্যে দেশটি দুই দফায় প্রায় ৪৭ দশমিক ৫ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে। তবে ক্ষতিপূরণ নিয়ে নেপালের নতুন অবস্থান ভবিষ্যতে ভারতসহ বিশ্বের বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে কাঠমান্ডুর জলবায়ু কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।