মাদক কারবারি যে দলেরই হোক, গ্রেপ্তারে ভয় নয়: আইনমন্ত্রী

জাতীয়
মাদক কারবারি যে দলেরই হোক, গ্রেপ্তারে ভয় নয়: আইনমন্ত্রী
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি যত শক্তিশালী রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘মাদক কারবারের সঙ্গে বা মাদকের গডফাদার হিসেবে সরকারদলীয় কিংবা বিরোধী কোনো নেতার সম্পৃক্ততা থাকলে, তাকে ধরতেও যেন আপনাদের হাত না কাঁপে।’

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

আইনমন্ত্রী বলেন, কারও বিরুদ্ধে মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনা থাকা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাকে আইনের আওতায় আনবেন। তিনি যত শক্তিশালীই হোন না কেন, এমনকি আমি যে রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সেই বিএনপির কোনো শক্তিশালী নেতাও যদি তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করার চেষ্টা করেন, তার ব্যাপারেও আপনারা জিরো টলারেন্স দেখাবেন। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এখানে কোনো পক্ষপাত নেই।’

নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, গত সপ্তাহে তার একটি ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ পায় পুলিশ। বিষয়টি তাকে জানানো হলে তিনি ওই নেতাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সে যদি বিএনপি না করত, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল করত, তাহলে তার ক্ষেত্রে যেটা করতেন, এক্ষেত্রেও সেটাই করবেন।’

তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর ওই নেতার মাদক সেবনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় তাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়।

ওই নেতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি তার নির্বাচনে নিবেদিতভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে নৈতিক স্বচ্ছতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে একজন সত্যিকারের রাজনৈতিক কর্মী হতে গেলে তার প্রথম শর্ত হলো, তাকে নৈতিকভাবে স্বচ্ছ হতে হবে। জনগণের কাছে যখন তাকে পাঠাব, জনগণ যেন বুঝতে পারে, সে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে এসেছে। অথচ সে নিজেই মাদকমুক্ত নয় এটা হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা উপেক্ষা না করে তাকে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। আদালত জামিন দিলে সেটি তার আইনগত অধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘সে যদি আদালত থেকে জামিন পায়, জামিন পাওয়া তার অধিকার। কিন্তু পুলিশ তাকে বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেবে, খুন করে বেড়াবে, আর জনগণের মুখে এই কথা হবে যে খুন করলেও পুলিশ তাকে ধরতে সাহস পাচ্ছে না—এটা হতে পারে না।’

মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সবার জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এখানে মাদকের সঙ্গে জড়িত বা সম্পৃক্ত যে বা যারাই থাকুক, সবার ক্ষেত্রেই জিরো টলারেন্স। যত বড় নেতাই হোক, সেটা আমরা দেখব।’

বাগেরহাটে মাদক কারবারিদের কর্মকাণ্ডের কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি মানুষের বিরূপ ধারণা তৈরি হোক, সেটি তারা চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাগেরহাট জেলায় ১০ জন লোক মাদক বিক্রি করে। আমি যদি এভাবে ধরি যে, এই ১০ জনই বিএনপি করে, তাহলে এই ১০ জনের কারণে বাগেরহাট জেলার ১০ হাজার মানুষ আমাকে ঘৃণা করবে। এই ১০ জনের কারণে বাগেরহাট জেলার ১০ হাজার মানুষ বিএনপিকে অপছন্দ করবে। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে, সরকার হিসেবে এই ঝুঁকি নেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোনো নেতা এর পেছনে থেকে থাকেন, তাদেরও আমরা সতর্ক করছি।’

জামিন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, কাউকে জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আদালতের বিষয়। তবে ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে জামিন নেওয়া বা দেওয়ার উদ্যোগ কিংবা জামিন ঠেকানোর কোনো চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সভায় গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে অনেক মানুষকে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং এসব ঘটনাকে ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তার দাবি, এ সময়ে চার হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মী গুম ও ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি ১৬ থেকে ১৭ বছরে প্রায় ৭০০ বিএনপি নেতাকর্মী গুম হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক ‘মিথ্যা’ ও ‘গায়েবি’ মামলা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন আইনমন্ত্রী।