বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ সংস্কারে বাংলাদেশের সমর্থন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয়
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ সংস্কারে বাংলাদেশের সমর্থন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
২৪ অক্টোবর ২০২৬

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত, মানবিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে বহুপাক্ষিকতা শুধু বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

বার্তায় হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচিত হওয়া বহুপাক্ষিক কর্মকাণ্ডে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, স্বচ্ছ ও কার্যকর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পক্ষে। বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থাটিকে কার্যকর ভূমিকা পালনে সক্ষম করতে নিরাপত্তা পরিষদের অর্থবহ সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপকে সমর্থন করে ঢাকা।

আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ, শান্তিপূর্ণ সমাধান, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

শান্তিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের ভূমিকা

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের অবদানের কথা তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাস্তব কর্মকাণ্ড ও সংহতির ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ দিবস সংস্থাটির সনদের দীর্ঘস্থায়ী প্রাসঙ্গিকতা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংলাপ, শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি, সার্বভৌম সমতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করা জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, টেকসই উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, লিঙ্গসমতা ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বিস্তৃত।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত ও জোরালো সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি উন্নয়নশীল, স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বার্তার শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পারস্পরিক আস্থা পুনরুদ্ধার, বিভেদ দূরীকরণ এবং এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে, যেখানে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির সুফল সবার মধ্যে ভাগাভাগি হবে।