বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া

জাতীয়
বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া
২৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রতারণা ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের নাগরিককে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে কমিশনের এক প্রতিবেদনের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটির কাছে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রলোভন ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিদেশি নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এ ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ট্রাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের রুশ ভাষায় লেখা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভাষা না বোঝার কারণে অনেকেই চুক্তির শর্ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান না। পরে তাঁদের ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি লড়াইয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে—এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় বলে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কমিশন বিশ্বের ৪৮টি দেশের নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করে ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতারণামূলক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ, আজারবাইজান, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, ঘানা, হন্ডুরাস, জর্ডান, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন ও জিম্বাবুয়ে।

ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা নিয়েও উদ্বেগ

প্রতিবেদনে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কমিশনের অভিযোগ, তীব্র শীতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে ফেলা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে কমিশন।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান এরিক মোসে জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম জীবনঝুঁকিতে পড়েন।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে ২০২৫-২৬ সালের শীতকালে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করা ২৫৫ জন ভুক্তভোগী, চিকিৎসক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধির সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

তবে জাতিসংঘের নিযুক্ত রাশিয়ার মিশন প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে। মিশনটির দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ফলে বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ এবং ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের বক্তব্যের সঙ্গে রাশিয়ার অবস্থানের স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।