আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ বই বাধ্যতামূলক হচ্ছে
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ নামে নতুন একটি বই যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থভাবে গড়ে তোলা, ডিজিটাল ডিভাইসের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ আউটার স্টেডিয়ামে বিসিসি প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাঠ্যপুস্তকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘খেলাধুলা’ নামে নতুন একটি পাঠ্যবই সংযোজন করা হবে। এতে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে সুস্থভাবে গড়ে তোলা এবং তাদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলার চর্চা বাড়ানো গেলে তরুণদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাবও জোরদার হবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে দল-মতনির্বিশেষে প্রতিহিংসামুক্ত, ঐক্যবদ্ধ জাতি ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস করে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ, পাঁচ বছরে ৫০৩ উপজেলায় স্টেডিয়াম
দেশে খেলাধুলার অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়েও স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে ২০১টি উপজেলা স্টেডিয়ামের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ফাইনালে শেরে বাংলা একাদশের জয়
অনুষ্ঠানের আগে বিকেল ৩টায় কবি জীবনানন্দ দাশ আউটার স্টেডিয়ামে বিসিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শুরু হয়। এতে শেরে বাংলা একাদশের মুখোমুখি হয় তারুণ্যের উচ্ছ্বাস একাদশ।
উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস একাদশকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় শেরে বাংলা একাদশ। টুর্নামেন্টে মোট ১৬টি দল অংশ নেয়।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলসিক আক্তার জাহান শিরীনের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ, রেঞ্জ ডিআইজি জুলফিকার আলী হায়দার, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব আনোয়ারুল হক তারিন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মশিউর রহমান মঞ্জুসহ অন্যরা।
পুরস্কার বিতরণ শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামের চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের মান তদারকি করেন।
বরিশালে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন
এর আগে দুপুরে বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণাফুলিয়া এলাকায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। পরে সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের উত্তর কড়াপুর এলাকায় আরেকটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন তিনি।


