জাপানে প্রবাসীদের দেশের অ্যাম্বাসেডর হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয়
জাপানে প্রবাসীদের দেশের অ্যাম্বাসেডর হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
২৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ দেশের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাপান সরকারের কাছে বাংলাদেশকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে জাপানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জাপানি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন খাতের চাহিদা পূরণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

তরুণদের কর্মসংস্থান সরকারের অগ্রাধিকার

দেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০ কোটির কম হবে না বলে তাঁর ধারণা। এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশ তরুণ, যাদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনীতির ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব সরাসরি ব্যবসা পরিচালনা করা নয়; বরং ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা।

নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর কথাও জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে বন্ধ থাকা প্রায় ৪৬টি মিল-কারখানা পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও অবকাঠামোগত উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আগামী বছর থেকে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ও সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা গেলে জাতির উন্নয়নের ভিত্তি আরও মজবুত হবে। নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এই উদ্যোগের আওতায় জাপানিসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ থাকবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তৃতীয় ভাষা বেছে নিতে পারবে। আগামী বছর থেকেই এ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

উপজেলা হাসপাতাল হবে ১৫০ শয্যার

স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নেও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এখনো পর্যাপ্ত নয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার স্বাস্থ্য খাতকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি শিশু ও নারীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পৃথক বিশেষায়িত ওয়ার্ড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়।

যৌথ ঘোষণায় বাংলাদেশ ও জাপানের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে আরও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্পায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবে দুই দেশ। পাশাপাশি শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

চার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

যৌথ ঘোষণায় চারটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো—

১. আধুনিক ও টেকসই যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন।

২. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি।

৩. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি এবং যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) সম্প্রসারণ।

৪. আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করা।

চার দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীরা সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সফরে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন সহযোগিতা ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।