চাকরি গেল হারুনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৮ কর্মকর্তার
কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা ও পলায়নের অভিযোগে বহুল আলোচিত সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ পুলিশের আট কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। পৃথক প্রজ্ঞাপনে পলায়ন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) শ্যামল কুমার মুখার্জী, লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তারেক বিন রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারহানা তাসকিন ও মো. মনিরুজ্জামান সরকার, নৌ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান এবং বরিশালের সহকারী পুলিশ কমিশনার কাজী মিজানুর রহমান।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হারুন অর রশীদকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(গ) বিধি অনুযায়ী পলায়নের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় একই বিধিমালার ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
একই অভিযোগে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জীকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে আদেশ কার্যকরের কথা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রাজশাহীতে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।
ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারহানা তাসকিনের বিরুদ্ধেও পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। বর্তমানে কানাডায় অবস্থানরত এই কর্মকর্তাকে ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার কথা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
ডিএমপির আরেক সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান সরকারকে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।
নৌ পুলিশের টাঙ্গাইল অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছানকেও পলায়নের অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় থাকা এই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার মো. তারেক বিন রশিদ ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে ১৫ দিনের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি ভোগের জন্য কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ছুটি শেষে ১৭ নভেম্বর তাঁর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি অনুপস্থিত থাকেন। দুই দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর পরও জবাব না পাওয়ায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট নৌ পুলিশ, ঢাকায় সংযুক্ত হয়ে যোগদান করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঠান্ডা, জ্বর ও কাশিজনিত অসুস্থতার কারণে অফিসে আসতে পারবেন না জানিয়ে তিনি ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিবেদন জমা দেন। তবে সেখানে ছুটির ধরন, ছুটি ভোগের স্থান, শুরুর তারিখ ও মেয়াদ সম্পর্কে কোনো তথ্য ছিল না। এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তিনি জমা দেননি।
নৌ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও আনিসুর রহমান কর্মস্থলে যোগ দেননি কিংবা কোনো প্রতিবেদন জমা দেননি। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এ ছাড়া বরিশালের সহকারী পুলিশ কমিশনার কাজী মিজানুর রহমানকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বরখাস্ত কার্যকরের তারিখ সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত তথ্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পৃথক আদেশে উল্লেখ করা তারিখ থেকে বরখাস্তের শাস্তি কার্যকর হবে।


