যাচাই-বাছাইয়ে আমলযোগ্য হওয়ায় আসিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান: দুদক সচিব

অন্যান্য
যাচাই-বাছাইয়ে আমলযোগ্য হওয়ায় আসিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান: দুদক সচিব
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, যাচাই-বাছাইয়ে ‘আমলযোগ্য’ বিবেচিত হওয়ায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

দুদক সচিব বলেন, কমিশন আইন ও বিধি অনুযায়ী কাজ করে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগও আইন-বিধি অনুসরণ করেই অনুসন্ধানে নেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হলে নিজের বক্তব্য দিতে পারেন এবং প্রয়োজন মনে করলে আইনি ব্যবস্থাও নিতে পারেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অনুসন্ধান শুরুর দিন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রিফিংয়ে দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশ ‘স্লিপ অব টাং’ ছিল।

এর আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর আগে অভিযোগের কোনো প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গিয়েছিল কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, কমিশনে কোনো অভিযোগ আসার পর তা প্রথমে যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে যায়। কমিটি অভিযোগ পর্যালোচনা করে মতামত ও সুপারিশ দেয়। সেই প্রতিবেদন কমিশন পর্যালোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানের প্রয়োজনেই এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি চাওয়া হয়েছে। তবে অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও সরকারি কেনাকাটাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এ জন্য উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের আওতায় থাকা অন্য তিনজন হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। অভিযোগগুলোর মধ্যে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় রয়েছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ৩ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে বিভিন্ন নথি চেয়েছে দুদক। এর মধ্যে আসিফ মাহমুদ দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট স্মারকের ভিত্তিতে বদলি সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে।

তবে দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকায় অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।