জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন: পানিসম্পদমন্ত্রী
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনে পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। ছবি: সংগৃহীত
পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের ২৪ জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হবে। কৃষি, মৎস্য, সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের ২৪ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল পাংশায় পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারাজ নির্মাণ। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে সারা বছর কৃষিকাজে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ব্যারাজ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও রয়েছে। এসব কারণে প্রকল্পটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করতে আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজবাড়ীতে আসতে পারেন।
এর আগে গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পুরো অর্থায়ন সরকারি তহবিল থেকে করার কথা রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির আওতায় খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলা সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রধান নদী ব্যবস্থার প্রবাহ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, লবণাক্ততার প্রভাব কমানো এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।
পানিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে ২০০৪ সালে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের বিস্তারিত সমীক্ষা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০২৬ সালে প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদন পেয়েছে।
এ সময় তিনি সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার দেশের নদী-নালা, খাল ও জলাশয় পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে আগামী পাঁচ বছরে নতুন ও চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখননের কথা জানানো হয়েছে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


