ফেসবুকের তথ্য ব্যবহারে মেটার ২৬ বক্তব্য বিভ্রান্তিকর: আদালত

অন্যান্য
ফেসবুকের তথ্য ব্যবহারে মেটার ২৬ বক্তব্য বিভ্রান্তিকর: আদালত
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের নীতি, ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মেটা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছে বলে রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতের জুরি।

শুক্রবার (স্থানীয় সময়) সান্তা ফে শহরের আদালতে দেওয়া রায়ে বলা হয়, নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে চিহ্নিত মেটার ২৯টি বক্তব্যের মধ্যে ২৬টি ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করেছে। এসব বক্তব্যের মধ্যে ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হয়, ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা-সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে।

তবে জুরির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান রক্ষায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

কয়েক বছর আগে প্রকাশ পাওয়া ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির সূত্র ধরে এই মামলার সূত্রপাত। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে যুক্ত রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা একটি তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের মাধ্যমে কোটি কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে তদন্তে উঠে আসে, ওই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে।

২০২১ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেন। দুই সপ্তাহ ধরে শুনানি চলার পর শুক্রবার মামলাটির রায় দেন জুরি।

অঙ্গরাজ্যটির অভিযোগ ছিল, ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ভাগ করা হয়, সে বিষয়ে মেটা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালা নিয়েও ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ আনা হয়।

নিউ মেক্সিকোর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ফেসবুকের তথ্য তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের কাছে যাওয়ার বিষয়টি ব্যবহারকারীদের কাছে যথেষ্ট পরিষ্কার করা হয়নি। ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও এমন একটি অ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছিল।

আদালতে মেটার আইনজীবীরা দাবি করেন, অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্যের কিছু অংশ আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই বক্তব্যের অন্যান্য অংশে ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা এবং ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে মেটা সতর্ক করেছিল বলেও তারা দাবি করেন।

মেটা আরও জানিয়েছে, তারা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে না।

জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করবেন বিচারক

জুরি মেটার ২৬টি বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করার পর এখন জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করবেন বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ।

মামলায় ৪ কোটি ৩০ লাখের বেশি লঙ্ঘনের বিষয় উঠে এসেছে। নিউ মেক্সিকোর আইনে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ জানিয়েছেন, তাঁর দপ্তর কত পরিমাণ জরিমানা চাওয়া হবে তা পর্যালোচনা করছে। তবে জুরির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ জরিমানা চাওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এর পাশাপাশি মেটাকে ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করবে অঙ্গরাজ্যটি। অতীতে দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য সংশোধন এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়, তা নিরীক্ষার ব্যবস্থা রাখার বিষয়ও আবেদনে থাকতে পারে।

তবে জুরি মেটার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ গ্রহণ করেনি। ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উদ্যোগ এবং তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে করা কিছু অভিযোগ তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

নিউ মেক্সিকোয় মেটার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় জুরি রায়

গত ছয় মাসে নিউ মেক্সিকোয় মেটার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় জুরি রায়। এর আগে মার্চে একই শহরের একটি জুরি রায় দিয়েছিল, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে মেটা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে।

ওই মামলায় মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়। পরে দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানি শেষে বিচারক কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য তহবিলে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নিউ মেক্সিকোয় কিশোর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর কয়েক সপ্তাহ পর শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আসক্ত করে তোলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭টি অঙ্গরাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি ও কয়েকটি মার্কিন অঞ্চলের সঙ্গে বড় ধরনের সমঝোতায় যায় মেটা। ওই সমঝোতায় প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৬৭০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়।

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা-সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে মামলা করা কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে ওই সমঝোতার আওতায় ৪৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার দেওয়ার বিষয়ও ছিল। তবে নিউ মেক্সিকো ওই সমঝোতার অংশ না হওয়ায় সেখানে মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি আদালতে গড়ায়।