উদ্বেগ আন্তর্জাতিক সংস্থার

প্রস্তাবিত সাইবার আইনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের শঙ্কা

অন্যান্য
প্রস্তাবিত সাইবার আইনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের শঙ্কা
২২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনীতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘লা ফুনেত্র দ্য পারিস’। সংস্থাটির দাবি, খসড়া আইনের কিছু অস্পষ্ট ধারা, বিচারিক তদারকি ছাড়া অনলাইন কনটেন্ট বন্ধের ক্ষমতা এবং পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের বিধান স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত সাইবার আইনের বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষণ করে তারা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগজনক কয়েকটি বিষয় চিহ্নিত করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খসড়ায় জামিন অযোগ্য অপরাধের কঠোর বিধান বহাল রাখার পাশাপাশি ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্যের’ মতো অস্পষ্ট বিষয়কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে।

সংস্থাটির আশঙ্কা, কনটেন্ট বন্ধের ক্ষেত্রে আগাম বিচারিক তদারকি না থাকা এবং কর্তৃপক্ষকে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার ফলে অনলাইন পরিসরে অনিয়ন্ত্রিত নজরদারি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর ফলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপের দিকে যেতে পারে বলেও বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে সংগঠনটি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিবৃতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যেকোনো মাধ্যমে তথ্য ও ধারণা অনুসন্ধান, গ্রহণ ও আদান-প্রদানের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে।

লা ফুনেত্র দ্য পারিসের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন—বিধিনিষেধের স্পষ্ট আইনি ভিত্তি থাকতে হবে, এর পেছনে বৈধ উদ্দেশ্য থাকতে হবে এবং তা প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হতে হবে। সংস্থাটির ভাষ্য, রাজনৈতিক সমালোচনা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে সাইবার অপরাধের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ তৈরি করে এমন অস্পষ্ট বিধান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিবৃতিতে বাংলাদেশের সম্পাদক পরিষদ ও সুশীল সমাজের প্রতি সংহতি জানিয়ে সরকারকে প্রস্তাবিত সাইবার আইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বিচারিক অনুমোদনের ব্যবস্থা পুনর্বহাল, সাইবার অপরাধের সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক সমালোচনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।

তবে প্রস্তাবিত আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো সম্পর্কে সরকারের বক্তব্য বা এসব উদ্বেগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

 

সূত্র: মানবজমিন