জশনে জুলুসে স্লোগানে মুখর ঢাকা, মানুষের ঢল
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। সাদা পোশাক ও টুপি পরা মানুষের উপস্থিতি, কালেমাখচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকায় মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক।
বুধবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার আয়োজনে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির সভাপতি শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি বের করা হয়।
ভোরের আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুফিবাদী অনুসারীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্যানটি পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পশ্চিম গেট থেকে শুরু হওয়া জুলুসটি দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন ও সচিবালয় সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ।
শোভাযাত্রার অগ্রভাগে থাকা বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ ও ‘ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা’। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কালেমাখচিত পতাকা, বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও বার্তাসংবলিত ফেস্টুন। অনেকের হাতে দেখা যায় বিশাল জাতীয় পতাকাও।
অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশের পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট ও মাথায় সাদা টুপি। শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়ে ‘নারায়ে তাকবীর’, ‘নারায়ে রিসালাত’সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো।
জুলুস শেষে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে বক্তব্য দেন শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী। তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করলেই সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষকে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত ও অস্থিরতার মধ্যে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
মহাসমাবেশে বক্তারা ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
আয়োজনে বিভিন্ন পর্যায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। নারী অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
জুলুস ও মহাসমাবেশ শেষে দেশ, জাতি, শান্তি ও মানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের বর্তমান ইমাম শাহ সুফি ড. শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী।


