ঢাকার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে নতুন পরিকল্পনা, চালু হবে স্মার্ট ইউটিলিটি ব্যবস্থা
রাজধানীর সড়ক বারবার খুঁড়ে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইনে কাজ করার ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত ‘স্মার্ট ইউটিলিটি ব্যবস্থা’ চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ব্যবস্থায় বিভিন্ন সেবার লাইন একই কাঠামোর মধ্যে রাখার চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনের সময় নির্দিষ্ট অংশ খুলে সংশ্লিষ্ট লাইনে কাজ করা যায়।
(১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ঢাকা মহানগর ও আশপাশের এলাকার উন্নয়নকাজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কর্তৃপক্ষ ও অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পানির লাইনের কাজ করতে একবার রাস্তা খোঁড়া হয়, পরে বিদ্যুৎ বা গ্যাসের কাজের জন্য একই সড়ক আবার কাটতে হয়। এভাবে বারবার রাস্তা খোঁড়ার প্রয়োজন কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এমন একটি কাঠামোর কথা ভাবা হচ্ছে, যেখানে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি একসঙ্গে থাকবে। কোনো নির্দিষ্ট লাইনে কাজের প্রয়োজন হলে পুরো রাস্তা না কেটে নির্ধারিত ঢাকনা খুলে সেখানে কাজ করা যাবে।
তবে এ ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, রাতারাতি বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না; তবে সরকার এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে সমন্বিত ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে রাজধানীতে চলমান উন্নয়নকাজে সমন্বয় বাড়াতেও একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি সংস্থা কোনো সড়কে কাজ শেষ করার পর একই জায়গায় অন্য সংস্থা যাতে নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ি না করে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রতি ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা পর্যায়ে সাব-কমিটির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে মেট্রোরেল, সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও ডেসাসহ বিভিন্ন সংস্থার বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে একই স্থানে একাধিকবার কাজ করতে হয়, যা সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ায়।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে জনভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। তাই একই এলাকায় বিভিন্ন সংস্থার প্রয়োজনীয় কাজগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে একসঙ্গে করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর যানজট কমাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে যান চলাচলে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা চলছে।
বাসস্ট্যান্ড ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। গাবতলী, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়ার বাসস্ট্যান্ড শহরের বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানান্তরের মধ্যবর্তী সময়ে বাসগুলো কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সরকারের ব্যয় ও সময় কমানোর পাশাপাশি নগরবাসীর দুর্ভোগ কমানোই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সমন্বিতভাবে উন্নয়নকাজ করা গেলে একই জায়গায় বারবার খোঁড়াখুঁড়ি এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।


